ePaper

যমুনার চরাঞ্চলে চিনা ধান চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকেরা

রফিককুল ইসলাম,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জে চরাঞ্চলে আবারও চিনা ধানের চাষে শুরু হয়েছে। বাজারে দাম ভালো থাকায় এ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকেরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যমুনা নদীর তীরবর্তী শাহজাদপুর, বেলকুচি, চৌহালী, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে শীত মৌসুমে চর জেগে ওঠে। এসব চরাঞ্চলের কৃষকেরা কাঁচামরিচ, ভূট্টা, বাদাম, গম, পেঁয়াজ, আদা, রসুনসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে থাকে। একসময় এসব চরে চিনা ধানের চাষও করা হতো।  সম্প্রতি ভয়াবহ নদী ভাঙনের কারণে এ চিনা ধান চাষাবাদ বিলুপ্ত হয়ে পড়ে। কয়েক বছর ধরে নদী ভাঙন কমে যায়। ভাঙন কমতে থাকায় চিনা ধানও চাষ শুরু করেছে চরাঞ্চলের কৃষকেরা। কাজিপুর ও চৌহালীর যমুনার চরাঞ্চলের কৃষকেরা ২ বছর ধরে এ চাষাবাদ শুরু করেছে। এছাড়া অন্যান্য উপজেলার চরাঞ্চলে বেশ কয়েকজন কৃষক-এ চাষাবাদও করছেন। তবে বিশেষ করে যমুনা বিধৌত চৌহালী উপজেলার চরাঞ্চলে এই ধান চাষে বেশি আগ্রহী কৃষকেরা। স্থানীয় কৃষকেরা জানান, চর জেগে ওঠার পর চিনা ধানের বীজ ছিটিয়ে দিলেই ধান গজায় এবং মাঝে একবার সামান্য সার প্রয়োগ করলেও কীটনাশকের প্রয়োজন পড়ে না। এ চাষাবাদে খরচ কম ও লাভ বেশি। প্রতি বিঘায় প্রায় ৮ থেকে ৯ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। বাজারে প্রতি মণ ধান ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। অর্থাৎ চরের জমি থেকে প্রায় বিনা চাষেই এ ধানের লাভ পাওয়ায় খুশি কৃষকেরা। এ কারণে প্রতিবছরই কৃষকেরা এ চাষে আবারও আগ্রহী হয়ে উঠছে। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, চরাঞ্চলে এ ধান চাষাবাদে কৃষি বিভাগে তেমন তথ্য নেই। তবে কৃষকেরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ চিনা ধান চাষ করছেন বলে জেনেছি।

এ মৌসুমে চরাঞ্চলের অনেক স্থানে এ ধানের চাষ হয়েছে। আগামীতে এ চাষ আরো বাড়তে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, একসময় যমুনার চরাঞ্চলে চিনা ধান চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করত কৃষকেরা। এতে লাভ বেশি এবং এই ধান চাষে কৃষকদের সহযোগিতা করা হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *