ePaper

কেশবপুরে বসতবাড়িতে হামলা ও টাকা লুটের প্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলন

রাজীব চৌধুরী,কেশবপুর

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় পৈত্রিক ভিটায় চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া এবং এর প্রতিবাদ করায় এক বসতবাড়িতে বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গত ২৬শে মার্চ সন্ধ্যায় উপজেলার ১০ নং সাতবাড়ীয়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) কেশবপুর নিউজ ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মোঃ রফিকুল ইসলাম এসব অভিযোগ করেন।সংবাদ সম্মেলনে সাতবাড়ীয়া গ্রামের মোঃ রফিকুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে জানান, তিনি তার পৈত্রিক জমিতে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ বসবাস করে আসছেন। বাড়ির প্রবেশের দীর্ঘদিনের রাস্তাটি সম্প্রতি বিবাদীরা অন্যায়ভাবে বন্ধ করে দেয়। এ নিয়ে ইতিপূর্বে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ-বৈঠক হয় এবং স্টাম্পে লিখিত অঙ্গীকারের মাধ্যমে রাস্তাটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু বিবাদীরা সেই আইন ও সামাজিক সিদ্ধান্ত অমান্য করে পুনরায় রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়।রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গত ২৬শে মার্চ সন্ধ্যায় তার নির্মাণাধীন বাড়ির সিঁড়ি তৈরির কাজ করার সময় তার চাচাতো ভাই ঘের ব্যবসায়ী আব্দুস সবুর (পিতা: মৃত আব্দুল মাজেদ মুন্সী) কাজে বাধা প্রদান করেন। বিষয়টি নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে রফিকুল ইসলাম স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর কেশবপুর উপজেলার সাবেক আমীর মাওলানা আব্দুস সামাদের কাছে সমাধানের জন্য যান। সেখানে আলোচনা চলাকালীন আব্দুস সবুর হঠাৎ উপস্থিত হয়ে রফিকুল ইসলামকে কোনো কারণ ছাড়াই বেধড়ক মারধর শুরু করেন। পরে স্থানীয় বাজারের সাধারণ মানুষ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় যে, প্রাথমিক ঘটনার মাত্র আধা ঘণ্টা পর আব্দুস সবুরের নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রফিকুল ইসলামের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এসময় তিন ভাইয়ের তিল তিল করে জমানো এবং গরু বিক্রির নগদ তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা লুট করা হয়। রফিকুল ইসলাম বলেন, “নির্মাণাধীন ৫ তলা ফাউন্ডেশনের বাড়ির ছাদ ও অন্যান্য কাজের জন্য আমার তিন ভাইয়ের চাকরির বেতনের টাকা আমরা জমিয়ে রেখেছিলাম।”হামলাকারীরা বাড়ির গেট, আলমারি, সোকেসসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায়৪ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।ভুক্তভোগী পরিবারটি দাবি করেছে যে, হামলাকারীরা বর্তমানে তাদের জানমালের ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে, যার ফলে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় বাড়িছাড়া হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এমতাবস্থায় কেশবপুর থানা প্রশাসন ও যশোর জেলা পুলিশ সুপারের কাছে অবিলম্বে তদন্তপূর্বক কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হামলাকারীদের গ্রেফতারের আকুল আবেদন জানিয়েছেন রফিকুল ইসলাম।সংবাদ সম্মেলনের সময় রফিকুল ইসলামের সাথে উপস্থিত ছিলেন তার ছোট ভাই মোঃ সাইদুর রহমান। উপরোক্ত বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুস সবুরের সাথে যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *