ePaper

জামালপুরে গরু চোর সন্দেহে এক যুবককে না-পেয়ে তাঁর বাবা-মাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে সালিশিতে মারধরের মায়ের আত্মহত্যা

 মোঃ রুহুল আমিন রাজু জামালপুর

জামালপুরে গরু চোর সন্দেহে এক যুবককে ধরতে গিয়ে না পেয়ে তাঁর বাবা -মাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে সালিশিতে বেঁধে রেখে মারধোর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগ করেন মারধরের শিকার মোঃ সুরুজ্জামান ও তার পরিবারের লোকজন। ওই ঘটনার অপমান ও নির্যাতন সহ্য করতে না পেয়ে সুরুজ্জামানের স্ত্রী আহত জোসনা বানু নামে এক মহিলা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে বলে জানা গেছে। জোসনা বানু মধ্যে বয়সের মহিলা।

ঘটনার সূত্রে জানা গেছে,ঘটনার দিন রাতে ৩টার দিকে জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের পূর্ব কুটামনি গ্রামের বাসিন্দা, সুরুজ্জামানের ছেলে কে না পেয়ে প্রথমে  সুরুজ্জামান কে জোরপূর্বক তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় একই এলাকার বাসিন্দা বাবু,সুজন, আক্কু,গোলাম কিবরিয়া মুক্তা, হৃদয়, হাশেম,হেলাল,আজিজল,মনি,মোতালেব,আমিন, মোস্তফাসহ অন্তত ৩০/৪০ জনের একটা সংঘবদ্ধ চক্র। তার সুরুজ্জামান কে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে  বাদীর বাড়িতে গিয়ে আটক করে রাখে।পরে দিনের বেলায় শালিসির নামে সুরুজ্জামান, তার স্ত্রী জোসনা বানুসহ তার পরিবারের লোকজন কে বেঁধে মধ্যেযুগীয় কায়দায় মারধোর করে। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় জোসনা বানু আঘাত ও  অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়। 

 জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়ন এর ছেলের চুরির অভিযোগে সালিসে মা-বাবা কে মারধর এর পর মায়ের আত্মহত্যার ঘটনার প্রেক্ষিতে জামালপুর সদর থানার পুলিশ সংবাদ পেয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করে এবং গতকাল রাতভর অভিযুক্তদের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলো,সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের পূর্ব কুটামনি গ্রামের বাসিন্দা আজিজুর রহমানের ছেলে ১।মোঃ গোলাম কিবরিয়া মুক্তা (২৮) ও ২। নায়েব আলীর ছেলে মোঃ হৃদয় (২০) কে আটক করেছে সদর থানার পুলিশ।

এলাকা এখন পুরুষ শুন্য। অভিযান অব্যাহত আছে। আটককৃত দুজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার সেকেন্ড অফিসার এস,আই সুমন চন্দ্র সরকার জানান, মাননীয় জেলা পুলিশ সুপার মোছাঃ ফারহানা ইয়াসমিনের দিক নির্দেশনায়, জামালপুর সদর থানার ওসি মিজানুর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সারারাতভর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ২জনকে আটক করা হয়েছে। বাকীদেরকে গ্রেফতার অব্যাহত রয়েছে। এলাকা এখন পুরুষ শূন্য হয়ে গেছে। এ বিষয়ে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *