ePaper

শ্রীপুরে হলুদের সমারোহ: কৃষিজ প্রকল্প থেকে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে সূর্যমুখী বাগান

আঃ কাদির শ্রীপুর (গাজীপুর) :

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় দিগন্তজোড়া সূর্যমুখী ফুলের হলুদ হাসি এখন যে কারও নজর কাড়ছে। এক সময় ভোজ্য তেল উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া একটি সাধারণ কৃষিজ প্রকল্প বর্তমানে রূপ নিয়েছে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে। প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী ভিড় করছেন এই নয়নাভিরাম সূর্যমুখী বাগানগুলো দেখতে। শ্রীপুর থেকে উসমান গনির পাঠানো ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, সারি সারি সূর্যমুখী ফুল সূর্যের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে, তৈরি করেছে এক অপরূপ দৃশ্য। প্রকৃতির এই হলুদের সমারোহ দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ। কৃষিতে নতুন দিগন্ত ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে শ্রীপুরের কৃষকরা ব্যাপকভাবে সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর ফলনও হয়েছে আশাব্যঞ্জক। স্থানীয় কৃষি অফিসের সহযোগিতায় হাইব্রিড জাতের সূর্যমুখী চাষ করে কৃষকরা একদিকে লাভের মুখ দেখছেন, অন্যদিকে সৃষ্টি হয়েছে মনোমুগ্ধকর নান্দনিক পরিবেশ। পর্যটনের নতুন ঠিকানা বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে শ্রীপুরের বিভিন্ন গ্রামের সূর্যমুখী বাগান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। বিকেলের নরম আলোয় সূর্যের দিকে মুখ করে থাকা হাজার হাজার ফুলের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে ভিড় করছেন ফটোগ্রাফার, ভ্লগার ও দর্শনার্থীরা। দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য: যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসছেন অনেকেই। ফটোগ্রাফি ও ভ্লগিং: শখের ফটোগ্রাফার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বাগানগুলো হয়ে উঠেছে আদর্শ লোকেশন। স্থানীয় অর্থনীতি: দর্শনার্থীদের আগমনে চাঙ্গা হচ্ছে স্থানীয় দোকান, যানবাহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসা। একজন স্থানীয় দর্শনার্থী বলেন, “আমি ভাবতেই পারিনি আমাদের বাড়ির পাশেই এত সুন্দর একটি বাগান হবে। আগে শুধু ছবিতে দেখতাম, আজ সরাসরি দেখে মন ভরে গেছে।” চ্যালেঞ্জ ও সচেতনতাদর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ে বাগানের মালিকরা কিছুটা উদ্বিগ্ন। অনেক সময় ছবি তুলতে গিয়ে অসাবধানতায় ফুল ও গাছের ক্ষতি হচ্ছে। তাই কৃষকদের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে—সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি ফসল রক্ষায় সচেতন থাকার। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, সূর্যমুখী চাষ শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, এটি উচ্চমানের ভোজ্য তেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। পর্যটনের এই আগ্রহকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগিয়ে কৃষকদের আরও উৎসাহিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *