এস, এ রশিদ (ঢাকা) সাভার
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেছে ‘ঢাকা-১৯ শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়ন কমিটি’। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে সাভার প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি শ্রমিকরা হলেও বারবার সরকার ও জনপ্রতিনিধি পরিবর্তনের সাথে সাথে তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটে না। ঢাকা-১৯ আসনটি দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও এখানকার কয়েক লক্ষ শ্রমিক আবাসন, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংকটে ভুগছেন।
শ্রমিকদের উল্লেখযোগ্য ৬ দফা দাবিগুলো হলো:
১. শ্রমিকদের জন্য সরকারি উদ্যোগে কলোনি, মানসম্মত স্কুল-কলেজ, ডে-কেয়ার সেন্টার এবং বার্ন ইউনিটসহ ৫০০ শয্যার আধুনিক সরকারি হাসপাতাল নির্মাণ।
২. জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত কার্যকর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
৩. সড়কে পর্যাপ্ত আলোকবাতি, সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং বৃষ্টি থেকে রক্ষায় যাত্রী ছাউনি নির্মাণ।
৪. ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, মাদক ব্যবসা, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
৫. অনিয়ন্ত্রিত বাড়িভাড়া রোধে আইন বাস্তবায়ন এবং কারখানাভিত্তিক রেশনিং ও ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তন।
৬. শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং স্কপ-এর ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা পালন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা উল্লেখ করেন, সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলে প্রায় ২ হাজার কলকারখানা রয়েছে এবং এখানে ভোটার সংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি মানুষ বসবাস করে। রানা প্লাজা ও তাজরিন ফ্যাশনসের মতো ভয়াবহ স্মৃতি স্মরণ করে তারা বলেন, গত দুই দশকে কয়েক হাজার শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন, কিন্তু আজও তাদের পর্যাপ্ত সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি।
শ্রমিক নেতারা আক্ষেপ করে বলেন, “এই শিল্পাঞ্চলের রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযোগী। রাতে কাজ শেষে ফেরার পথে নারী শ্রমিকরা প্রায়ই ছিনতাই ও যৌন হয়রানির শিকার হন। আমরা চাই, আসন্ন নির্বাচনে যিনিই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন, তিনি যেন শ্রমিকদের এই মৌলিক সমস্যাগুলো সংসদে তুলে ধরেন এবং সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।”
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন রফিকুল ইসলাম সুজন, খাইরুল মামুন মিন্টু এবং কবির হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন ছাড়া দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তারা রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এই দাবিগুলো অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।
