ঢাকা, বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২০, ২১ শ্রাবণ, ১৪২৭

সাহেদ-পাপিয়ারা কীভাবে দলে ঢুকে? ‘ফাঁফফোকর’ দেখছেন নানক

দলের ভেতরে থাকা ফাঁকফোকর দিয়েই সাহেদ-পাপিয়াদের মতো বিতর্কিত লোকেরা দলে ঢোকার সুযোগ পায় বলে অভিমত ব্যক্ত করেছে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সাহেদ-পাপিয়ারা কীভাবে দলে ঢুকে পড়ে? নিশ্চয়ই কোনও ফাঁকফোকর আছে! যে নেতার হাত ধরে ঢোকে সেই নেতার হাত ভেঙে দিতে হবে। শুধু সাহেদ-পাপিয়াদের হাত ভাঙলে চলবে না, তাদেরকে যারা দরজা দিয়ে ঢোকায় তাদের হাত গুড়িয়ে দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে রক্ষা করতে হবে। সাহেদ-পাপিয়াদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

৩১ জুলাই শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় শ্রমিক লীগ আয়োজিত ঈদুল আজহা উপলক্ষে অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের পূর্বে নানকএসব কথা বলেন। জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি ফজলুল হক মন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক কে এম আজম খসরু।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহাঙ্গীর কবির নানক দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সাহেদ নিয়ে আপনাদের প্রত্যেকের প্রশ্ন আছে।’

কোনও হাইব্রিড যেন শ্রমিক লীগের আগামী কেন্দ্রীয় কমিটি ও মহানগর কমিটিতে ঢুকতে না পারে এ ব্যাপারে সংগঠনের নেতাদের সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

নানক বলেন, ‘ত্যাগ-তিতিক্ষায় পরীক্ষিত; তাদের কোনও অভাব পড়ে যায় নাই। যোগ্য নেতাদের যোগ্য জায়গা আপনাদের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দেবেন। একই কথা আমার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষকলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগের ক্ষেত্রেও। সব জায়গাতেই সাহেদ-পাপিয়াদের সম্পর্কে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।’

নানক বলেন, ‘পাপিয়াকে ধরলেই চলবে না। পাপিয়াকে কে দলে ঢুকিয়েছে, কে আশ্রয় দিয়েছে, কে প্রশ্রয় দিয়েছে, তাকে চিহ্নিত করে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আগামীকাল বাংলাদেশে ঈদুল আজহা পালিত হবে। আমরা অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়েও ঈদুল আজহা পালন করবো। কারণ আগামীকাল থেকে শোকের মাস আগস্ট শুরু হবে। এই আগস্ট মাসে শেখ হাসিনার নির্দেশে সকল কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে, যে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষেরা ঈদ করতে পারছে না, সেই মানুষদের পাশে দাঁড়াতে হবে।’

এসময় বন্যা ও করোনা কবলিত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের অনুরোধ জানান তিনি।

সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগস্ট মাসের কর্মসূচি পালন করার আহ্বান জানিয়ে নানক বলেন, ‘এই আগস্ট মাসের নামে কোনও চাঁদাবাজি কাউকে করতে দেয়া হবে না। কঠিনভাবে খেয়াল রাখতে হবে। আগস্ট মাসকে সামনে রেখে কেউ যেন কোনও চাঁদাবাজি না করতে পারে।’

নানক বলেন, ‘আপনারা দোয়া করবেন, আল্লাহতালা যেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হেফাজতে রাখেন এবং তাঁর জন্য দোয়া করবেন। ১ আগস্ট সারা দেশে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। যে মহামানব জন্ম না নিলে বাংলাদেশ হতো না, যে মহামানবের সৃষ্টি না হলে এই বাংলাদেশে আমরা স্বাধীন নাগরিক হতে পারতাম না, সেই মহামানবকে ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যা করেছে। তাই আগামীকাল ১ আগস্ট ঈদের জামায়াতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিহত পরিবারবর্গের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করার জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা হলেন এদেশের মেহনতি মানুষের কণ্ঠস্বর। মেহনতি মানুষের প্রতীক। আপনাদের মাধ্যমে সারাদেশের মেহনতি মানুষকে জাগ্রত করার জন্য উজ্জীবিত করার জন্য এই করোনাকালীন সময়, বন্যা ও আগামীতেও যদি কোনও ধরনের প্রতিকূল পরিবেশ আসে তাহলে সকল কিছুতেই আপনারা মেহনতি মানুষের আশা আকাঙ্কার স্বপ্ন নিয়ে পাশে থাকবেন। মানুষের পাশে থেকে মানুষের জন্য কাজ করবেন। এটাই আমাদের নেত্রীর আকাঙ্ক্ষা, এটাই ওনার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণে আপনারা বলিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।’

নাছিম বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের নেত্রী। ১৬ কোটি মানুষকে তিনি ভালবাসেন। তিনি চান, প্রতিটি মানুষ ভাল থাকুক, সুস্থ থাকুক। কোনও একটি প্রাণও যেন অকারণে অথবা অবহেলায় ঝরে না যায়। আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার সৈনিক হিসেবে, আমরা জাতির পিতার আদর্শের সন্তান হিসেবে সবসময় মানুষের পাশে আছি, থাকবো। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সত্য, ন্যায়, দুর্নীতিমুক্ত একটি সুন্দর উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আমরা গঠন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।’