ঢাকা, বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২০, ২১ শ্রাবণ, ১৪২৭

৩১ জুলাইয়ের পর অনিশ্চিত লাখো মার্কিন শ্রমিকের ভাগ্য

ব্র্যান্ডন হাম্বারস্টন, এই মার্কিন তরুণ চাকরি হারিয়ে কয়েক মাসের অপেক্ষার পর ৭৫০ ডলার সাপ্তাহিক ভাতা পেয়ে যেন অনেকটাই হাফ ছেড়ে বাঁচলেন। করোনা ভাইরাস মহামারির ফলে চাকরি হারানোর আগে মেক্সিকান চেইন চিপোতলেতে কর্মরত ছিলেন ১৯ বছর বয়সী এ তরুণ।

এ সময়ে সামান্য যে সরকারি ভাতা পেতেন, তা দিয়ে বাসাভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদিপণ্য কেনাকাটা করে যাচ্ছিল। এবার সেই নির্ভরতার জায়গাও শেষ হওয়ার অপেক্ষায়। এতে দুশ্চিন্তায় রয়েছে হাম্বারস্টনের মতো লাখো কর্মী।

মহামারির মধ্যে সপ্তাহে ৬০০ ডলারের বেকার ভাতা দেয়া হচ্ছিল, যার মেয়াদ ৩১ জুলাই শেষ হতে যাচ্ছে। অনেক প্রদেশে ভাতা গ্রহণকারীরা তাদের সর্বশেষ চেক পেয়েও গেছেন। এবার ১৫০ ডলারের চেক পাওয়া হাম্বারস্টন জানায়, পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। আমাদের প্রজন্ম কোনো মতে অস্তিত্ব টিকিয়ে আছে।

অর্থনীতিতে করোনা ভাইরাসের ধাক্কা মোকাবেলায় চলতি বসন্তে যুক্তরাষ্ট্র সরকার যখন ২ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন, তখন অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছিলেন, এটা পর্যাপ্ত নয়।
ওয়াশিংটনের আইনপ্রণেতারা এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। যদিও ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা আরো ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের প্যাকেজ প্রস্তাবনা উত্থাপন করেছেন। তবে রিপাবলিকানরা এতে সমর্থন না জোগালেও কী পরিমাণ অর্থ লাগবে, এ বিষয়েও একমত হতে পারছেন না।

হাম্বারস্টনের মতো তিন কোটি আমেরিকান শ্রমিক, যারা এ সুবিধা পেতেন, তাদের পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুততর সময়ে পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গত মার্চে প্রতি সপ্তাহে ৬০০ ডলারের বেকারত্ব ভাতা অনুমোদন করেছিল কংগ্রেস। এ সুবিধা গ্রহণকারীর সংখ্যা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত তিন গুণ বেড়েছে। চলতি মাসের শেষের দিকে বন্ধ হয়ে যাওয়া অস্থায়ী সুবিধার আকার কমানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছেন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা।

তারা বলছেন, এমনতর সুবিধার ফলে কর্মীরা কাজে ফিরতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। একটি গবেষণার বরাতে দেখা গেছে, নিম্ন আয়ের চাকরির দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সুবিধা গ্রহণকারী কর্মরত থাকা অবস্থায় যে মজুরি পেতেন, বর্তমানে তার চেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন।

হাম্বারস্টন অবশ্য ভিন্ন কথা বলছেন। তিনি তার রাজ্য ওরেগনে ডজনখানেক চাকরির আবেদন করেছেন। কিন্তু মহামারির কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নিয়োগে ভয় পাচ্ছে। আমরা তো কোনো চাকরিই পাচ্ছি না। আশপাশে কোনো কাজ নেই।

গত ফেব্রুয়ারিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ১ কোটি ৫০ লাখ কর্মী ছাঁটাই হয়েছে। লকডাউন নীতিমালা শিথিল হলে গত মে ও জুনে কর্মসংস্থান বেড়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় ছাঁটাই আবার বাড়ছে, কারণ নভেল করোনা ভাইরাসে সংক্রমিতের সংখ্যা বাড়ছে।

সর্বশেষ গত সপ্তাহে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে লিংকডইন, নাইকি ও দাও কেমিক্যাল। অনেক ছোট কোম্পানিও কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে এগিয়েছে।

বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিটি যেখানে ভোক্তাব্যয়ের ওপর নির্ভর করছে, সেখানে এখনই বেকারত্ব ভাতা বন্ধ করে দেয়ার সঠিক সময় নয়। এমনতর পদক্ষেপে দেশটির প্রবৃদ্ধি আরো ২ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কিছু অর্থনীতিবিদ।