ePaper

১১ দলীয় আসন সমঝোতায় মৌলভীবাজার–৪ আসনে যোগ্য প্রার্থী কে?

মো. আফজল হোসেইন (শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি)

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। তারই ধারাবাহিকতায় ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য গত বৃহস্পতিবার ইসলামি আন্দোলনের জন্য ৫০টি আসন রেখে বাকি দলগুলোর মধ্যে আসন বণ্টন করে।

এরপর শুক্রবার চরমোনাই পীরের দল ইসলামি আন্দোলন এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে সরে আসে।

তবে এর আগেই সারা দেশের মতো মৌলভীবাজার–৪ আসনেও বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। এতে নিজ নিজ দলের নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ–উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু আসন বণ্টনের ঘোষণার পর থেকে শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি ও এনসিপির কর্মী–সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের আসন বণ্টন তালিকায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী নূরে আলম হামিদীকে মনোনীত করা হয়। এতে তার দলের কর্মী–সমর্থকদের উচ্ছ্বসিত দেখা গেলেও জোটের বাকি দুই দলের কর্মী–সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল জামায়াতে ইসলামির সমর্থক হাসান মিয়া বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুর রব ভাইয়ের পক্ষে আমরা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখি, জোট থেকে নূরে আলম হামিদীকে মনোনীত করা হয়েছে। খারাপ লাগলেও তিনি একজন যোগ্য প্রার্থী। তাছাড়া জোটগত সিদ্ধান্তের প্রতি আমরা সবসময় শ্রদ্ধাশীল।তবে জামায়াতে ইসলামি শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সেক্রেটারি আশরাফুল ইসলাম কামরুল বলেন, “বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি, অমীমাংসিত রয়েছে। জোট থেকে উন্মুক্তভাবে নির্বাচন করার ঘোষণাও আসতে পারে। আগামী ২০ জানুয়ারি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।”

এদিকে এনসিপির প্রার্থী প্রীতম দাসকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও বিতর্ক চলছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তার ওপর হামলা ও নির্যাতনের বিষয়টি আলোচনায় থাকলেও, অনেকে তাকে ইসলামবিদ্বেষী বলে আখ্যায়িত করছেন।বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী নূরে আলম হামিদীর রয়েছে ব্যক্তিগত ভোটব্যাংক। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক কর্মকাণ্ড ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় অনেকে তাকে জোটের যোগ্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন। মো. আবু বক্কর বলেন, তিনি জামিয়া লুৎফিয়া আনোয়ারুল উলুম হামিদনগর বরুনা মাদ্রাসার সঙ্গে জড়িত। এছাড়া বরুনার পীর মুফতি ফারুক সাহেবের ভাতিজা ও খলিলুর রহমানের ছেলে হিসেবে এলাকায় তার ব্যাপক পরিচিতি ও সুনাম রয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তার পরিবার হিন্দু ও মুসলিম পরিবারকে আশ্রয় ও নিরাপত্তা দিয়ে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল। ফলে ভোটারদের মধ্যে তাদের পরিবারের প্রতি আস্থা রয়েছে।এদিকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও চা শ্রমিকদের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সম্পর্কে ধারণা তুলনামূলক কম থাকায় প্রার্থী নির্বাচনে তারা দ্বিধায় রয়েছেন। মাগুরছড়া পুঞ্জির তরুণ ভোটার লিয়ুস বলেন, ভোট কাকে দেব এখনো সিদ্ধান্ত নিইনি। রাজনৈতিক দল সম্পর্কে ধারণা কম থাকায় আমরা আমাদের নেতাদের নির্দেশ অনুযায়ী ভোট দেব। চা শ্রমিকদের মধ্যে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী হাজী মুজিব এবং শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক মেয়র মহসিন মিয়ার নাম আলোচনায় রয়েছে। খেজুরিছড়া চা-বাগানের নোমেন বলেন, দুই প্রার্থীই আমাদের পরিচিত এবং তারা আমাদের মাঝে এসে বিভিন্ন আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা তরুণ ভোটারদের সঙ্গে আলোচনা করে পছন্দের প্রার্থী নির্বাচন করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *