ePaper

হাতিয়ায় গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় ধম্রজাল

ইয়াকুব নবী ইমন, নোয়াখালী

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চানন্দিতে এনসিপিতে ভোট দেওয়ায় নির্বাচন পরবর্তি এক গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ওই নারীর অভিযোগ শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় ধর্ষণের শিকার হতে হয় তাকে। কিন্তু ঘটনার সময় ও যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই অভিযুক্তের দাবী, ওই সময় সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। আবার হাসপাতালে ওই নারীর চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্রেও রয়েছে গড়মিল। তবে পুলিশ বলছে প্রাথমিকভাবে তদন্তে মারামারির তথ্য পেয়েছে তারা। জানা গেছে, ১৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে, ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে মারামারির ঘটনায় চিকিৎসা নিতে আসেন এক গৃহবধূসহ কয়েকজন। তারই তিন ঘন্টা পর বিকাল ৫টায় ওই গৃহবধূ পুনরায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এসে বলেন তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। একই নারীর দুই দফায় দুই ঘটনায় ভর্তির বিষয়টি তৈরি করেছে ধর্মজালের।  ধর্ষণের অভিযোগকারী নারী ওই নারী জানান, রহমান তাকে ধর্ষণ করেছে, আর অন্যরা পাহার দিয়েছে।  ভোটের দিন এনসিপিতে ভোট দেওয়ায় আগেই নাকি তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিলো। তিনি ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার দাবি করেন। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীকে ধর্ষণের ঘটনা প্রচার হওয়ার পর নিজ ফেসবুকে লাইভে আসেন অভিযুক্ত রহমান হোসেন। তার দাবী, ধর্ষণের শিকার নারীর উল্লেখিত ঘটনার সময়ে তিনি নিজেই ভর্তি ছিলেন ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে।

আর এমন ঘটনা ঘটেনি বলে জানায় স্থানীয় একাধিক বাসিন্ধা। গৃহবধুর প্রতিবেশীরা জানান, এতো বড় একটা ঘটনা ঘটলে আমরা নিশ্চই জানতাম, হট্টোগোল হতো, মানুষ জড়ো হতো। এ কোন ভাবেই বিশ্বাস যোগ্য নয়। তবে এখনও পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা না হওয়ায় ওই নারীর শারীরিক পরীক্ষা এখনো করা যায়নি। তাই ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নোয়াখালী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জানান, আমরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। পুলিশ কেস হওয়ার পর তার ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। অপরদিকে হাসপাতালে ওই নারীকে দেখতে এসে ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার দাবী করেন  নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা হান্নান মাসউদ। তিনি জানান, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে জাতির সামনে তুলে ধরা হোক। আমরা চাই প্রশাসন নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করবে। না হয় দায় দায়ীত্ব প্রশাসানকে নিতে হবে। ওই নারীকে দিয়ে মিথ্যা ধর্ষণের নাটক সাজিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবী করেন বিএনপির নেতারা। নোয়াখালী জেলা বিএনপি সদস্য আলা উদ্দিন জানান, আমরা গভীর ভাবে লক্ষ করছি,  এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমটি মহল বিএনপির মান সম্মান ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করছে। গুজবকারী চিহিৃত করে আইনের আওতায় আনারও দাবী জানান তিনি। প্রাথমিক তদন্তে ওই স্থানে দুই দফায় মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবী পুলিশের। সেখানে কোন ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি বলে জানান জেলা পুলিশের  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন। তিনি আরো জানান, ঘটনা তদন্ত পুলিশ নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করছে। প্রকৃত ঘটনা উৎঘাটনের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবী জেলাবাসীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *