অভিনয় কিংবা ব্যক্তিগতভাবে পৃথিবীর নানা দেশে ঘোরার সুযোগ হয়েছে। গত বছরের শেষ দিকটায় বিদেশ ভ্রমণ আমার জীবনে আলাদা করে মনে রাখার মতো। কারণ, এ সময়ে আমার বিয়েবার্ষিকী। কাজের ব্যস্ততা, শুটিং আর শহুরে কোলাহলের বাইরে গিয়ে এ দিনটিকে আমি চেয়েছিলাম একেবারে নিজের মতো করে উদযাপন করতে। সে কারণেই সিদ্ধান্ত নিই ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়ব ভালোবাসার শহরে। বিয়েবার্ষিকীতে সাধারণত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত কিংবা ঐতিহাসিক স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করি। এরই ধারাবাহিকতায় গিয়েছিলাম ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে। সেখানের আইফেল টাওয়ারের সামনে বসে কেক কাটার সেই মুহূর্তটা আমি কখনও ভুলব না। পাশে আমার জীবনসঙ্গী, সামনে পৃথিবীর সবচেয়ে রোমান্টিক স্থাপনাগুলোর একটি। চকলেট কেক কেটে তৃতীয় বিয়েবার্ষিকী উদযাপন করেছি। প্রচণ্ড বাতাসে কেকের ওপর থাকা মোমগুলো বার বার নিভে যাচ্ছিল। প্যারিসের আলো, ঠান্ডা হাওয়া আর চারপাশের মানুষের ব্যস্ততার মধ্যেও আমাদের জন্য সময়টা যেন থমকে গিয়েছিল। সেই আনন্দ শুধু নিজেদের মধ্যে আটকে রাখিনি। লাইভে যুক্ত করেছিলাম আমার ভক্ত আর শুভাকাঙ্ক্ষীদের। তাদের ভালোবাসা, শুভেচ্ছা–সব মিলিয়ে মুহূর্তটা হয়ে উঠেছিল আরও বিশেষ। আমার কাছে মনে হয়েছে, ভালোবাসা ভাগ করলে তা আরও বড় হয়। এবারের ভ্রমণকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য প্রচুর ছবি তুলেছি। এ সময় বারবারই মনে হচ্ছিল ‘ভ্রমণ মানে শুধু ছবি তোলা নয়, নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করা’। কোনো জায়গায় গেলে সেখানে স্থানীয় খাবারগুলো খেতে পছন্দ করি। এবারও তার ব্যত্যয় হয়নি। প্যারিসের স্মৃতি নিয়ে এরপর যাত্রা করি যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে গিয়ে যে জায়গাটা আমাকে প্রচণ্ডভাবে নাড়া দেয়, তা হলো নায়াগ্রা ফলস। এ জলপ্রপাতটি তিনটি পৃথক জলপ্রপাতের সমন্বয়ে গঠিত। এখানে এলে এমনিতেই মন ভালো হয়ে যায়। বিশাল জলপ্রপাতের সামনে দাঁড়িয়ে আমি বুঝেছি প্রকৃতি কতটা শক্তিশালী আর মানুষ কতটা ক্ষুদ্র। সেই ক্ষুদ্রতার মাঝেও ভালোবাসা থাকলে মানুষ নিজেকে সাহসী মনে করে।জলপ্রপাতের গর্জনের ভেতর দাঁড়িয়ে আমার মনে হয়েছে জীবন ঠিক এমনই, থেমে থাকে না, ছুটে চলে। পানি ধোঁয়ার মতো বাষ্প হয়ে ওপরের দিকে ওঠার সৌন্দর্যই আলাদা। গিয়েছিলাম হারবেস ফ্যামিলি ফার্মেও। শহরের কোলাহল থেকে দূরে, উন্মুক্ত স্থানে এই জায়গাটা আমাকে অন্যরকম শান্তি দিয়েছে। তাজা ফল, সবুজ মাঠ আর নিরিবিলি পরিবেশে কিছুটা সময় কাটিয়ে বুঝেছি, ভালোবাসা মানে শুধু ঝলমলে শহর নয়, কখনও কখনও নীরবতাও ভালোবাসার সবচেয়ে সুন্দর ভাষা। সেখানে গিয়ে মনে হয়েছিল শহরের কোলাহল থেকে দূরে, উন্মুক্ত স্থানে এই ফার্ম যেন শান্তির ঠিকানা।
নিউইয়র্কে এসে অভিজ্ঞতা নেয় ভিন্ন রূপ। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার–জি দ্য অকুলাসে দাঁড়িয়ে আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম এর স্থাপত্য আর ইতিহাস দেখে। জায়গাটার ভেতরে দাঁড়িয়ে মনে হয়েছে, সময় আর মানুষের গল্প এখানে একসঙ্গে মিশে আছে। এরপর লুই ভুইটন ফিফথ অ্যাভিনিউ–জায়গাটা আমাকে নিউইয়র্কের আরেকটি দিক দেখিয়েছে। বিলাস, ফ্যাশন আর আধুনিকতার মিশেলে এই শহরটা সত্যিই আলাদা। সবচেয়ে আবেগঘন অভিজ্ঞতা ছিল টাইমস স্কয়ারের বিলবোর্ডে নিজেকে দেখা। আলোয় ভরা সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে, বিশাল স্ক্রিনে নিজের উপস্থিতি দেখতে দেখতে আমার মনে হয়েছে স্বপ্ন যদি সত্যি হয়, তাহলে এমনই হয়। এই শহর স্বপ্ন দেখতে শেখায়, আর স্বপ্ন পূরণ করার সাহস দেয়। শহরটির চাকচিক্য দেখে মনে হলো এই শহর ঘুমায় না। সবসময় জেগে থাকে। এই পুরো ভ্রমণটা আমার কাছে শুধু ঘোরাঘুরি নয়। এটি ছিল জীবনসঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটানোর, জীবনকে নতুন করে অনুভব করার এক যাত্রা। প্যারিস থেকে নিউইয়র্ক–প্রতিটি শহর আমাকে শিখিয়েছে, ভালোবাসা থাকলে যেকোনো জায়গা হয়ে উঠতে পারে ভালোবাসার শহর। সবকিছু মিলিয়ে এবারের ভ্রমণে দারুণ এক অভিজ্ঞতা হয়েছে।
