ePaper

সিরাজগঞ্জে ১৭৮টি ভোটকেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ২৮১টি ঝুঁকিপূর্ণ

রফিকুল ইসলাম,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

সিরাজগঞ্জ জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে চরাঞ্চল অধ্যুষিত আসনগুলোর নিরাপত্তা ও যাতায়াত ব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রশাসন বেশি নজর রাখছে। জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের বিশেষ শাখা থেকে ৯২৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৭৮টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ২৮১টিকে ঝুঁকিপূর্ণ ও ৪৬৪টি ভোটকেন্দ্রকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, “জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দুর্গম অঞ্চলের কেন্দ্রগুলো পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন করছি। এ ছাড়া প্রতিটি সার্কেল ও থানার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা তাদের এলাকার কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করছেন।”

এদিকে সরকারের নির্দেশনায় গণভোটের প্রচারে ব্যস্ত সময় অতিক্রম করছে সিরাজগঞ্জের প্রশাসন। এজন্য জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে তথ্য কার্যালয়, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও এনজিওগুলোর মাধ্যমে চলছে উঠান বৈঠক, মতবিনিময় সভা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রর্দশনী। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মসজিদের ইমাম ও খতিবদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করা হচ্ছে। বিতরণ করা হচ্ছে গণভোটের প্রচারপত্র। নয়টি উপজেলার ইউএনও এসব কার্যক্রম তদারকি করছেন। এদিকে, নিরাপত্তার জন্য জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের ৯২৩টি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অপরদিকে, নির্বাচনি আচরণবিধি প্রতিপালন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য ১৭ জন নির্বাহী হাকিমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলার সার্বিক নির্বাচনি পরিস্থিতির অভিযোগ গ্রহণের জন্য ছয়জন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মিলে সাতজন পদস্থ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, “গণভোটের প্রচার কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনায় প্রতিনিয়ত জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জুম মিটিং ও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের অগ্রগতির প্রতিবেদন প্রতিদিন ঢাকায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে।” জেলার প্রতিটি ভোটকেন্দ্র প্রয়োজনীয় সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার কথা জানিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, “ভোটের দিন এসব সিসিটিভি ক্যামেরা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। এ ছাড়া চরাঞ্চলের কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তায় তুলনামূলক বেশি ফোর্স দায়িত্বে থাকবেন। চরাঞ্চলে কর্তব্যরতদের আসা-যাওয়ার জন্য নৌকা, মোটরসাইকেল ও ঘোড়ার গাড়ি এবং আলোর স্বল্পতা দূরীকরণে ফগ লাইটের ব্যবস্থা করা হবে।” ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্র ও রাস্তাঘাট প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত ভোটকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো মেরামত ও যাতায়াতের রাস্তা মেরামতের জন্য এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।” জেলার ছয়টি সংদীয় আসনে মোট ৯২৩টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা ২৬ লাখ ৮৬ হাজার ৮৫৮ জন।

সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, “কেন্দ্রগুলোর জন্য কে বা কারা হুমকি হতে পারে, অতীতে কেন্দ্রগুলোতে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছিল কিনা, ভোটকেন্দ্রে আসা-যাওয়ায় ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে কিনা- সেসব তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভোটের আগেই এগুলো সমাধান করা হবে।” চরাঞ্চলের ভোটকেন্দ্রগুলোর প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, “পানি স্বপ্লতার কারণে যমুনা নদীর অনেক চ্যানেল সরু হয়ে গেছে। ভোটের আগে এ সমস্যা আরো বাড়বে। চরাঞ্চলের অনেক রাস্তা-ঘাট চলাচলের অনুপযোগী। এসব কিছু মেরামত ও দেখভালের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *