রফিকুল ইসলাম,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর শাখা নদীসহ অন্যান্য নদী খাল বিল এখন শুকিয়ে গেছে। এসব নদীতে মাঝে মাঝে চর পড়েছে। আবার কোথাও কোথাও বন্যার উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পলি জমে নালায় পরিণত হয়েছে। ফলে জেলার যমুনার চর ও চলন বিল এলাকার হাজার হাজার নৌ-শ্রমিক এবং জেলেরা বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকে বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় ¯’ায়ী মৎস্যজীবী রয়েছে ২৬,৮৭৩ জন এর মধ্যে মৌসুমি মৎস্যজীবী রয়েছে ৪ থেকে ৫ হাজার। জেলার কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালি, শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদী তাড়াশ ও উল্লাপাড়া উপজেলার চলন বিল এখন কোন কোন জায়গা মরা খালে পরিণত হয়েছে। এর বুকজুড়ে জেগে উঠেছে হাজার হাজার একর আবাদি জমি। জমির মালিকরা জেগে ওঠা চরে বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করছেন। উৎপাদিত হ”েছ বিভিন্ন ধরনের ফসল। এতে কৃষকদের মুখে ফুটেছে হাসি। কিš’ ভরা নদীতে যে সব নৌ-শ্রমিক নৌকা চালিয়ে এবং জেলেরা মাছ ধরে জীবীকা নির্বাহ করত সেই নৌ-শ্রমিক ও জেলেরা আজ বেকার হয়ে পড়েছেন। তারা এখন স্ত্রী, সন্তান, পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নদীতে পানি না থাকায় নৌ-শ্রমিক এবং জেলেরা তাদের উপকরণ নৌকা এবং জাল বিক্রি করে দিয়ে ভিন্ন পেশায় জড়িয়ে পড়ার চেষ্টা করছে। অনেকে বিক্রয়লব্ধ টাকা দিয়ে জীবন ধারণ করায় পূুজি শূন্য হয়ে পড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই পেশায় নিয়োজিত হাজারও শ্রমিকের রোজগার বন্ধ হওয়ায় দাদন ব্যবসায়ী এবং এনজিও’র কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বাড়িতে খোরাকি দিয়ে শহরে পাড়ি জমা”েছন রোজগারের জন্য। শহরে এসে অনেকে রিকশা, ভ্যান, টেম্পু, সিএনজি, বাস-ট্রাক হেলপার, গার্মেন্টেস শ্রমিক, রাজমিস্ত্রির কাজে জড়িয়ে পড়েছেন। জেলার কাজিপুর উপজেলার নাটুয়ারপাড়ার সাহেদ আলী , শুভগাছার হারান আলী , সিরাজগঞ্জ সদরের বেলুটিয়া, পাইকপাড়া, ও ঘোনাপাড়া চরের সাইদ, নুর হোসেন, আজাদ জানান, যমুনা নদীর বিভিন্ন এলাকায় চর পরায় এখন আর জাল ফেলে মাছ পাওয়া যা”েছ না। এ কারণে আমরা এ পেশা ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন পেশায় জড়িয়ে পড়েছি।
সিরাজগঞ্জের বিএল স্কুল ঘাটের নৌকার মাঝি শহিদ, বা”চু, হোসেন আলী কাজিপুরের মেঘাই নৌ-ঘাটের ইনসাব আলী, সোহেল, জয়নাল জানায়, আজ থেকে ২৫/৩০ বছর আগে প্রায় সারা বছরই নৌকা চালিয়ে জীবীকা নির্বাহ করতাম। এখন শুষ্ক মৌসুম শুরুর সাথে সাথেই যমুনা নদী বিভিন্ন এলাকায় শুকিয়ে নালায় পরিণত হয়েছে। নৌকা চালানোর মত কোন জায়গা নেই। তাই নৌকা রেখে দিয়ে বিভিন্ন পেশায় কাজ করে সংসার পরিচালনা করছি।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান জানান, শুষ্ক মৌসুম শুরু হয়েছে। এ কারনে খাল, বিল, নদী, নালা শুকিয়ে যা”েছ। এতে মাছের উৎপাদন কমে যা”েছ। অনেক মৎস্যজীবী বেকার হয়ে পড়েছে। ভিজিএফ কার্ড দেয়ার জন্য ইতিমধ্যেই জেলেদের তালিকা তৈরী করা হ”েছ। অতিসত্বর সামগ্রী বিতরণ করা হবে বলে তিনি জানান।
