ePaper

সিরাজগঞ্জে শীত ও কুয়াশায় নষ্ট হচ্ছে  বীজতলা চারা সংকটের আশঙ্কা

রফিকুল ্ইসলমি,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে নষ্ট হচ্ছে বোর ধানের বীজতলা। পৌষ মাসের শুরু থেকেই তীব্র ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। দিনের পর দিন সূর্যের আলো না পাওয়ায় এবং তাপমাত্রা কম থাকায় চারা পর্যাপ্ত খাদ্য তৈরি করতে পারছে না। ফলে শিকড় দুর্বল হয়ে যাচ্ছে, গোড়ায় শিশির জমে পচন ধরছে, আর অনেক স্থানে চারা হলুদ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে আসন্ন বোরো আবাদে চারা সংকটের আশঙ্কা করছের চাষিরা।

উপজেলার বিভিন্ন মাঠে ঘুরে দেখা গেছে, অনেক বীজতলার চারা নষ্ট হয়েছে, চারার পাতা পচে গেছে, চারা হলুদ হয়ে গেছে। বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢাকা রয়েছে আবার অনেকেক ছত্রাকনাশক স্প্রেও করতে দেখা যায়। কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, তিনি ৮বিঘা জমিতে ধান লাগানোর জন্য বীজতলা দিয়েছিলেন। ঘন কুয়াশা ও তীব্র ঠান্ডার কারণে আমার বীজতলার মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে,১৫ থেকে ২০ ভাগ চারা নষ্ট হয়ে গেছে, দুর্বল ও হলুদ হয়ে গেছে। যদি আবহাওয়া আরো কয়েক দিন এমন থাকে, পুরো বীজতলা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে ভবিষ্যৎ আবাদ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। আমরা নানা কৌশল অবলম্বন করছি, কিন্তু পুরো ক্ষতি ঠেকানো যাচ্ছে না। কৃষক দুলাল হোসেন বলেন, ছত্রাকনাশক ব্যবহার করলেও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না, বরং খরচ বেড়ে যাচ্ছে। অনেক চারা ইতিমধ্যে নষ্ট হয়েও গেছে। কৃষকরা বীজতলা রক্ষার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছেন। ভোরে লাঠি দিয়ে চারা থেকে জমে থাকা শিশির ঝরানো হচ্ছে। কেউ কেউ রাতে পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখছেন, আবার কেউ বোর বীজতলায় গরম পানি দিচ্ছেন। নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে গেলে খরচ অনেক বেড়ে যাবে, যা ছোট ও মাঝারি কৃষকদের জন্য বড় চাপ।

তাড়াশ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা  জানান, তীব্র শীতে বীজতলায় কোল্ড ইনজুরি ও ছত্রাক আক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তাই আমরা পলিথিন ব্যবহার, সকালে পানি পরিবর্তন এবং জমে থাকা শিশির ঝরানোর পরামর্শ দিচ্ছি। পাশাপাশি কুইক পটাশ ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করারও পরামর্শ দিচ্ছি। কৃষকদের সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। কৃষি বিভাগ আশা করছে, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে বড় ধরনের ক্ষতি ছাড়াই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *