ePaper

সিরাজগঞ্জে মনসুর আলী মেডিকেলে শতকোটি টাকার যন্ত্রপাতি পড়ে আছে ঃ বন্ধ আইসিইউ এনআইসিইউ

রফিকুল ইসলাম,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জনবলের অভাবে ৬ বছর ধরে পড়ে আছে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ও শয্যা। বন্ধ রয়েছে, জীবন রক্ষাকারী আইসিইউ এনআইসিইউ ইউনিট। জানা যায়, সিরাজগঞ্জে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি ৮৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২১ সালে চালু হলেও। আজও বেশ কিছু বিভাগ চালু হয়নি। এর ফলে বেশ কিছু মেশিন আজও স্থাপন করা হয়নি। আবার কিছু মেশিন স্থাপন করা হলেও প্রয়োজনীয় লোকবল ও ওষুধের অভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। তথ্য বলছে, ২০১৪ সালে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০২১ সালের আগস্টে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম চালু হয়। কিন্তু চালুকৃত কিছু বিভাগ ছয় মাস ধরে বন্ধ হয়ে গেছে। সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য চারটি উন্নত আইসিইউ শয্যা আছে। নবজাতক শিশুদের জন্য এনআইসিইউ মেশিনাদি ও শয্যা। ক্যান্সার বিভাগ, ডায়ালাইসিস বিভাগ,এমআরআই মেশিনের ১৬ কোটি টাকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জমা থাকলেও আজও আসেনি মেশিন, দক্ষ জনবলের অভাবে পড়ে আছে প্রায় সাত কোটি টাকা মূল্যের আধুনিক এনজিওগ্রাম যন্ত্রটি। ইটিটি,ক্যাথল্যাব, হার্ট লাংগস নেফ্রোলজি বিভাগ, মানসিক রোগ বিভাগ, পরমানু চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করার কথা সেটিও কিন্তু এখন ও স্থাপন করা হয়নি, গরীব রোগীদের জন্য সমাজসেবা বিভাগ কিন্তু এখনও চালু হয়নি। রোগিদের  শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি ৮৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২১ সালে চালু হলেও। আজও বেশ কিছু বিভাগ চালু হয়নি। এর ফলে বেশ কিছু মেশিন আজও স্থাপন করা হয়নি। আবার কিছু মেশিন স্থাপন করা হলেও প্রয়োজনীয় লোকবল ও ওষুধের অভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। তথ্য বলছে, ২০১৪ সালে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০২১ সালের আগস্টে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম চালু হয়। কিন্তু চালুকৃত কিছু বিভাগ ছয় মাস ধরে বন্ধ হয়ে গেছে। সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য চারটি উন্নত আইসিইউ শয্যা আছে। নবজাতক শিশুদের জন্য এনআইসিইউ মেশিনাদি ও শয্যা। ক্যান্সার বিভাগ, ডায়ালাইসিস বিভাগ,এমআরআই মেশিনের ১৬ কোটি টাকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জমা থাকলেও আজও আসেনি মেশিন, দক্ষ জনবলের অভাবে পড়ে আছে প্রায় সাত কোটি টাকা মূল্যের আধুনিক এনজিওগ্রাম যন্ত্রটি। ইটিটি,ক্যাথল্যাব, হার্ট লাংগস নেফ্রোলজি বিভাগ, মানসিক রোগ বিভাগ, পরমানু চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করার কথা সেটিও কিন্তু এখন ও স্থাপন করা হয়নি, গরীব রোগীদের জন্য সমাজসেবা বিভাগ কিন্তু এখনও চালু হয়নি। রোগিদের অভিযোগ,এদিকে সিসি ইউ বিভাগ চালু হলেও ছয় মাস ধরে নষ্ট হয়ে আছে শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত এসি গুলো । হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য চার শয্যার আইসিইউ ভেন্টিলেটর প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু দক্ষ জনবলের অভাবে সেগুলো এখনো চালু হয়নি। এ কারণে প্রায় চার কোটি টাকা দামের আইসিইউ ভেন্টিলেটরের পাশাপাশি প্রিন্টার, কম্পিউটারসহ অন্য ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশগুলোও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে আছে। ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের মেমোগ্রাফি যন্ত্র এখনো বন্ধ পড়ে রয়েছে। আইসিইউ সচল রাখতে অন্তত পাঁচজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়োজন বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগে ভেঙে যাওয়া হাত-পা কৃত্রিমভাবে অস্ত্রোপচার করে ভেতরে রড সংযোজনের জন্য আধুনিক সিআরএম (ক্লোজড ম্যানুয়াল রিডাকশন) যন্ত্র আছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক না থাকায় যন্ত্রটি এখনো অচল। আনুষঙ্গিক সব সরঞ্জাম মিলিয়ে আধুনিক এই যন্ত্রের দাম প্রায় চার কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। চক্ষু বিভাগে শিশু ও তরুণদের চোখের ল্যাসিকস কমানো-বাড়ানোর জন্য কোটি টাকা মূল্যের অত্যাধুনিক ল্যাসিকস যন্ত্র আছে। এই বিভাগে আরও কিছু উন্নত মানের আধুনিক যন্ত্র আছে। কিন্তু চিকিৎসক ও দক্ষ জনবলের অভাবে সেগুলো সচল করা যাচ্ছে না। কামারখন্দের আলোদিয়া গ্রামের হাসনা বেগম (৫৫) সম্প্রতি হাসপাতালের (সিসিইউ) ইউনিটে ভর্তি। তার বড় মেয়ে হাফসা বলেন, চিকিৎসক তাঁর মায়ের উন্নত চিকিৎসার জন্য এনজিওগ্রাম করতে বলেছে। শুনেছি এই হাসপাতালে এনজিওগ্রাম যন্ত্র আছে, কিন্তু বন্ধ। এই পরীক্ষা বাইরে করাতে ২৫-৩০ হাজার টাকা লাগবে। এত টাকা ব্যবস্থা করা তাঁদের জন্য চরম সমস্যার। সূত্র বলছে, হাসপাতাল ল্যাবে প্যাথলজিক্যাল ৭০টি পরীক্ষা করা হচ্ছে। আলট্রাসনোগ্রাম, সিটি স্ক্যানের মতো আরও কিছু যন্ত্রপাতি বিকল্প উপায়ে চালু রাখা হয়েছে। হাসপাতালে উপ-সহকারী পরিচালক ওয়াদুদ জানান, এখানে অনেক সমস্যা ছিল, কিছু মেশিন স্থাপন করা হলেও প্রয়োজনীয় লোকবল ও ওষুধের অভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। শুরু থেকেই বন্ধ রয়েছে, জীবন রক্ষাকারী আইসিইউ এনআইসিইউ ইউনিট। কিছু ডাক্তার অনিয়মিত রয়েছে, আমরা নিয়মিত করার চেষ্টা করছি। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালটি চালুর জন্য প্রাথমিকভাবে ৭৫ জন সহকারী রেজিস্ট্রারের পদ রাখা হয়। এর মধ্যে বর্তমানে ৫৮ জন কর্মরত। এ ছাড়া মেডিসিন বিভাগে একজন, সার্জারি বিভাগে একজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট ও মেডিকেল কর্মকর্তা পদে দুজন চিকিৎসক প্রেষণে এই হাসপাতালে যুক্ত আছেন। দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ শ্রেণির ৭৬ পদের বিপরীতে ৪৭টি পদ শূন্য রয়েছে। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মরত আছেন আরও কিছু কর্মচারী। হাসপাতালের কার্যক্রম বেগবান হলে দ্বিতীয় ধাপে ১৮৩ জন চিকিৎসক ও ৭৩ জন দক্ষ জনবলের প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখনো পূর্ণাঙ্গ এই জনবলকাঠামো অনুমোদন হয়নি। হাসপাতালের পরিচালক এটিএম নুরুজ্জামান জানান, হাসপাতালটিতে অনেক আধুনিক যন্ত্রপাতি আছে। এর মধ্যে অনেকগুলোই সচল করে তাঁরা সেবা দিচ্ছেন। তবে আইসিইউ ও এনআইসিইউ শুরু থেকেই চালু করা যাচ্ছে না। এছাড়া অনেক যন্ত্রপাতি সচল করা যাচ্ছে না। বর্তমানে হাসপাতালটিতে বেশকিছু চিকিৎসক ও জনবলের অভাব রয়েছে। এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *