মো.তাসলিম উদ্দিন সরাইল(ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
পর্যাপ্ত অবকাঠামো, জরাজীর্ণ ভবন, আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব এবং জনবল সংকটের কারণে সরাইল উপজেলা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শয্যা সংখ্যার তুলনায় রোগী বেশি হওয়ায় এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ না থাকায় রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা জনভোগান্তি ও চিকিৎসার মান কমিয়ে দিচ্ছে। অবকাঠামো ও সেবাসংকটের মূল দিকগুলো: হাসপাতালের ভবন পুরনো, অরক্ষিত এবং শয্যা সংখ্যার তুলনায় স্থান অনেক কম।প্রয়োজনীয় ডায়াগনস্টিক ইকুইপমেন্ট, আইসিইউ বিকল অবস্থা সেবা ব্যাহত করছে।জনবল সংকট: ডাক্তার, এবং পরিচ্ছন্ন তাকর্মীর দীর্ঘমেয়াদী শূন্য পদের কারণে সাধারণ ব্যবস্থাপনাও ভেঙে পড়ছে।চিকিৎসা ব্যাহত: ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তির কারণে মেঝেতে বা বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য জরুরি ভিত্তিতে অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং শূন্য পদে জনবল নিয়োগের উদ্যোগ প্রয়োজন।ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় একটি বিল্ডিং চলছে অন্তর্বিভাগ ও বহির্বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম। সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ৩ তলা বিশিষ্ট বিল্ডিংটি তৈরি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ অসম্পূর্ণ রেখে পালিয়ে যাওয়ার কারণে এ প্রকল্পটি দীর্ঘ দিন ধরে স্থগিত রয়েছে। অন্যদিকে চিকিৎসকের ২৯টি পদ থাকলেও বর্তমানে২১ জন দায়িত্ব পালন করছেন। পাঁচজন চিকিৎসক আছেন ডেপুটেশনে।ডাক্তার দের ডেপুটেশন হলো সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রেষণ, যার মাধ্যমে একজন চিকিৎসক তার মূল কর্মস্থল থেকে সাময়িকভাবে অন্য কোথাও দায়িত্ব পালন করেন। প্রায়ই দেখা যায়, বেতন নিয়েছেন সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কর্মরত আছেন ঢাকা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, অন্তর্বিভাগ, বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ, ল্যাব ও প্রশাসনিক কাজ চালানো হচ্ছে। ছোট ছোট কক্ষে কয়েকটি শয্যা দিয়ে অন্তর্বিভাগ চালু রাখা হয়েছে। শয্যাসংখ্যা কম হওয়ায় রোগীদের স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কক্ষে বহির্বিভাগ ও একটি কক্ষ কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অল্প জায়গায় ঠাসাঠাসি করে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এ ছাড়া জরুরি বিভাগ রোমের আসা যাওয়াআসা জায়গায়ও ল্যাবের রোম আরো ছোট। ভবনে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দিতে গিয়ে আতঙ্কের মধ্যে থাকেন চিকিৎসকেরা।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২৯টি চিকিৎসকের পদ রয়েছে। এর মধ্যে ৮টি পদ শূন্য। সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিল্ডিং নির্মাণ শেষ হয়নি। ২০২২ সালের শুরুতে ৩ তলা বিশিষ্ট বিল্ডিংটি তৈরি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ অসম্পূর্ণ রেখে পালিয়ে যাওয়ার কারণে এ প্রকল্পটি দীর্ঘ দিন ধরে স্থগিত রয়েছে। এতে সরাইল উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হাসপাতালের বর্তমান বিল্ডিংটি অত্যন্ত ছোট এবং সংকীর্ণ হওয়ায় রোগীদের সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে। আউটডোরে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী আসে, কিন্তু যথাযথ স্থান সংকুলান না হওয়ায় গাদাগাদি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কোন কোন রুমের তিনজন থেকে চারজন ডাক্তার বসেন।ভর্তি রোগীর সাথে আসা কৃষক সাজন (৫৫) বলেন, হাসপাতালের অভ্যন্তরে রোগীদের রাখার জন্য খুবই অল্প জায়গা রয়েছে। ফলে রোগীরা উপযুক্ত সেবা পাচ্ছে না। ছোট ছোট ঘরে রোগীদের ভরতি করা হচ্ছে, এবং রোগী নিয়ে এদিক সেদিক কোনও জায়গা নেই।স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের শুরুতে কাজ শুরু হলেও ঠিকাদারের অবহেলা এবং পালিয়ে যাওয়ার কারণে এটির কাজ শেষ হয়নি। এর ফলে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো উন্নয়ন না হওয়ায় রোগীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয়রা দ্রুত বিল্ডিংটির কাজ শেষ করে স্বাভাবিক চিকিৎসা সেবা চালু করার দাবি জানিয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন বলেন, ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রোগী আসায় পুরনো অবকাঠামোতে স্থান সংকুলান হচ্ছে না।ভবনসংকট ও চিকিৎসক কম থাকার পরও তাঁরা রোগীদের সাধ্যমতো সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। নতুন বিল্ডিং এর কাজ শেষ হলে এই সমস্যা থাকবে না।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. নোমান মিয়া বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভবন সংকটের এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। দ্রুত নতুন ভবনের কাজ শুরু করার চেষ্টা চলছে। নতুন চিকিৎসক নিয়োগ হয়েছে আরও নিয়োগ হলে এই সংকট থাকবেনা। তিনি বলেন, হাসপাতালে নতুন বিল্ডিং এর কাজ দ্রুত শেষ হলে চিকিৎসকদের বসার সমস্যা হবে না। রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা আরো ভাল হবে।
