শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুরে সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে গোপনে প্রায় সাড়ে চার হাজার চালের খালি বস্তা পাচারের সময় একটি পিকআপ ভ্যান আটক করেছে স্থানীয় জনতা। ঘটনাটি প্রশাসনকে জানানো হলেও তাৎক্ষণিক কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকায় ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে শ্রীপুর–বরমী আঞ্চলিক সড়কের ঘুন্টিঘড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সরকারি লেখা সংবলিত বিপুল পরিমাণ খালি বস্তা বোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান সাতখামাইরের দিকে যাচ্ছিল। সন্দেহ হলে স্থানীয়রা গাড়িটি থামিয়ে চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় চালক জানান, খাদ্য গুদাম থেকেই বস্তাগুলো কেনা হয়েছে।
খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে পিকআপ ভ্যানটি বস্তাসহ শ্রীপুর সরকারি খাদ্য গুদামের সামনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক নেতারাও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে কীভাবে খালি বস্তা বাইরে গেল এবং এর সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী জড়িত কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ বিষয়ে শ্রীপুর খাদ্য গুদামের খাদ্য কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) আসাদুজ্জামান আসাদ খালি বস্তা বাইরে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমার এখান থেকে কোনো খালি বস্তা বাইরে যায়নি।” তিনি আরও জানান, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে একটি তদন্ত টিম বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. কামাল উদ্দিন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “খালি বস্তা খাদ্য গুদাম থেকে কীভাবে বাইরে গেছে, তা আমার জানা নেই। এ বিষয়ে ওসিএলএসডির সঙ্গে যোগাযোগ করুন।”এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ব্যারিস্টার সজিব আহমেদ বলেন, “আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখেছি।” তবে তদন্তের অগ্রগতি বা সম্ভাব্য পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এদিকে, স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্ত দ্রুত শেষ করে দোষীদের শনাক্ত করা হবে এবং সরকারি সম্পদ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
