রবিউল ইসলাম শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সাবেক এমপি গাজী নজর“ল ইসলামের বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্র“য়ারি) সকাল ১০টায় শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল। প্রধান বক্তা ছিলেন সাবেক এমপি গাজী নজর“ল ইসলাম। এছাড়াও উপ¯ি’ত ছিলেন ডাকসুর নির্বাচিত ভিপি সাদিক কায়েম, কেন্দ্রীয় জামায়াত নেতা ড. খলিলুর রহমান মাদানী, জকসু এজিএস মাসুদ রানা, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী বাবু কৃষ্ণ নন্দী, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার সম্পাদক মোঃ আমির“ল ইসলাম, সাবেক রাবি শিবির সভাপতি আব্দুর রহিম, জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুলসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।সকাল থেকে বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো মিছিল নিয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপ¯ি’তিতে নকিপুর সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে জড়ো হলে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত নেতাকর্মীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে জনসভা¯’ল। উল্লেখযোগ্য হারে মহিলা নেতাকর্মীদের উপ¯ি’তি লক্ষ্য করা যায়।প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল বলেন, দেশের মানুষ আজ পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যা”েছ। জনগণ শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চায়। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে জনগণ ভোটের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ, দখলদার ও চাঁদাবাজদের প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবসম্মত ও বিজ্ঞানভিত্তিক। এতে শিক্ষা, স্বা¯’্য, কর্মসং¯’ান, কৃষি উন্নয়ন, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যব¯’ার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি উপ¯ি’ত জনতাকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে অব¯’ান নেওয়ার আহ্বান জানান। ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম তার বক্তব্যের শুর“তে জুলাই আন্দোলনের শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর বিচারের দাবিতে উপ¯ি’ত জনতাকে সঙ্গে নিয়ে স্লোগান দেন। তিনি বলেন, বিগত সময়ে সাতক্ষীরায় চরম জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে। আগামী নির্বাচনে বিপুল ভোটে সাতক্ষীরার চারটি আসন জামায়াতের আমীরের নেতৃত্বকে উপহার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।সাদিক কায়েম আরও বলেন, জামায়াতের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের বন্দোবস্ত হবে, যেখানে হিংসা, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির কোনো জায়গা থাকবে না। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে ৫৪ বছরের মাফিয়া শাসন ও অনিয়মের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, জুলাই পরবর্তী সময়ে একটি রাজনৈতিক দল নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে শতাধিক নেতাকর্মী হারিয়েছে—তারা কিভাবে দেশের মানুষকে নিরাপত্তা দিতে পারবে? পারবে না। কিš‘ জামায়াতে ইসলামী জুলাই পরবর্তী সময়ে মানুষের পাশে থেকো নিরাপত্তার হাত বাড়িয়েছে, আগামীতে জামায়াত সরকার গঠন করলে আমার মায়েরা বোনেরা নিরাপদে চলতে পারবে, দেশের সামগ্রিক পরি¯ি’তি উন্নয়নে সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা হবে ইনশাআল্লাহ। শ্যামনগরকে উপকূলীয় দুর্যোগপ্রবণ জনপদ উল্লেখ করে সাবেক এমপি গাজী নজর“ল ইসলাম বলেন, এ এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি বলেন, শ্যামনগরের মানুষের প্রধান দাবি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও উপকূল সুরক্ষা নিশ্চিত করা। নির্বাচিত হলে উপকূলে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদীভাঙন প্রতিরোধ, পানি নিষ্কাশন ব্যব¯’া উন্নয়ন এবং আধুনিক দুর্যোগ ব্যব¯’াপনা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি রেললাইন ¯’াপন, সুন্দরবনকে পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর, রাস্তাঘাট সংস্কার, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উপজেলা স্বা¯’্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করে শ্যামনগরকে একটি মডেল উপজেলায় পরিণত করা হবে ইনশাআল্লাহ। একইসঙ্গে সুন্দরবন রক্ষা, বনজ সম্পদ সংরক্ষণ ও পরিবেশ সুরক্ষাকে সর্বো”চ গুর“ত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি। অন্যান্য বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, দেশের মানুষ আজ নিরাপদ জীবন, ন্যায়বিচার ও ভোটাধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা বলেন, বর্তমান সময়ে সমাজে মাদক, সন্ত্রাস, দখলদারি ও দুর্নীতির বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এসব অনিয়ম বন্ধ করতে হলে সৎ, যোগ্য ও আল্লাহভীর“ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে সংখ্যালঘু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করা হবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় স্ব”ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা হবে। তারা আগামী নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে উপ¯ি’ত হয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে গাজী নজর“ল ইসলামকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।জনসভা শেষে নেতাকর্মীদের বিভিন্ন স্লোগানের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়।
