টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের শমসের ফকির ডিগ্রি কলেজের সুনাম ও সম্মানহানির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কলেজের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর, অসত্য ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করছে, যা কলেজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা। এসব অপপ্রচারের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।অধ্যক্ষ জানান, ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে শমসের ফকির ডিগ্রি কলেজ শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার মানদণ্ড বজায় রেখে সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে কলেজে নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন, পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশসহ সব প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষক-কর্মচারীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।তিনি আরও বলেন,সম্প্রীতি কিছু পত্রিকায় মোনায়েম সরকার ও লাল মামুদ সরকার নামে দুইজন শিক্ষককে নিয়ে যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। এসব মিথ্যা তথ্যের কারণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।অধ্যক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, কলেজের সম্মানহানির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে তদন্তসাপেক্ষে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজনে আইনগত পদক্ষেপও নেওয়া হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে তা সরাসরি কলেজ প্রশাসনের কাছে উত্থাপন করা উচিত, গুজব ও অপপ্রচারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করা কাম্য নয়। সরেজমিনে কথা বলে জানা যায়, কলেজের একাধিক শিক্ষক ও গভর্নিং বডির সদস্যরা জানান, শিক্ষক লোকমান হোসেন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বঙ্গবন্ধু গবেষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কলেজে শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে ৪৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে কলেজ কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে। পরবর্তীতে দায়ের করা মামলায় দোষী প্রমাণিত হলে তিনি ২৪ দিন কারাভোগ করেন।
এ বিষয়ে শিক্ষক মোনায়েম সরকারের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষকে অবগত না করেই লোকমান স্যার তার সার্টিফিকেট যাচাইয়ের জন্য চিঠি পাঠান এবং ভুল সার্টিফিকেটের নাম্বার দেখিয়ে জাল প্রমাণের চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেন, তার সার্টিফিকেট সঠিকভাবে যাচাই করলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। মোনায়েম সরকার আরও বলেন, লোকমান স্যার সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে এসব সংবাদ প্রচার করাচ্ছেন, যা তার সম্মানহানির অপচেষ্টা মাত্র।এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক লোকমান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
