শরিফা বেগম শিউলী রংপুর প্রতিনিধি
রংপুর পীরগাছা উপজেলার কল্যাণী ইউনিয়নে দৈনিক আজকের প্রত্যাশা পীরগাছা প্রতিনিধি সাংবাদিক মোঃ শুকুরানা ও তার পরিবারের লোকজনকে মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে যার মামলা নং-১/১৭ এই ঘটনায় মোঃ জাহিদুল ব্যাপারি (৪০), পিতা-নুরনবী ব্যাপারি, মোঃ শহিদুল খলিফা (৪০), মোঃ নজরুল মিস্ত্রি (৩৮), উভয়ের পিতা-নূরুজ্জামান, মোঃ খোরশেদ আলম (৩৫), পিতা- নুরুল ইসলাম এবং ০৫/০৬ জনকে অজ্ঞাত করে মাহিগঞ্জ মেট্রোপলিটন থানা মামলা রুজু করে। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত একটার দিকে নজরুল মিস্ত্রিকে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করেন। মাহিগঞ্জ মেট্রোপলিটন থানার এসআই এস এম সাইফুর রহমান।
এই ঘটনার তিন নাম্বার আসামি নজরুল মিস্ত্রিকে গ্রেফতার করে কোর্টে প্রেরণ করলে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাকে কারাগারে পেরণ করেন। উল্লেখ এই যে, দৈনিক আজকের প্রত্যাশা পীরগাছা প্রতিনিধি শুকুরানা বলেন, বড়দরগা বাজারে আর এম ট্রেডার্স নামের আমাদের হার্ডওয়ারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখান থেকে নজরুল মিস্ত্রি প্রায় দেড় বছর পূর্বে দুই এক মাসের কথা বলে ৪৯,০০৪/- (উনপঞ্চাশ হাজার চার) টাকার মালামাল বাকিতে নেয়। দুই মাস পার হলে নজরুলের কাছে টাকা চাইলে তিনি আজকাল করতে করতে দেড় বছর হয়ে যায় অথচ নজরুল মিস্ত্রি মালামালের পাওনা টাকা দেয় না। গত বছর আমরা দোকানের বকেয়া তোলার জন্য হালখাতা করেছি। সেই হালখাতার সময় নজরুল মিস্ত্রিকে হালখাতার কার্ড দিলে, সে আমার গায়ে হালখাতার কার্ড ছুড়ে মারে। আর বলে আমি তোদের বকেয়া টাকা দিবো না। যেমন করে পারিস তুলে-নে। হঠাৎ করে গত বৃহস্পতিবার ০২/০৪/২০২৬ ইং তারিখে সকাল বেলা নজরুল মিস্ত্রী আমাদের দোকানে আসলে আমার বাবা তার কাছে পাওনা টাকা চাইলে সঙ্গে সঙ্গে নজরুল মিস্ত্রী আমার বাবার সঙ্গে উত্তেজিতভাবে বলে আমি টাকা দেবোনা। দেখি কেমন করে টাকা নেইস। তখন আমি নজরুলকে।বলি বাইকের চাবিটা রেখে যা আমাদের পাওনা টাকা দিয়ে চাবি নিয়ে যাবি। নজরুল মিস্ত্রি সে সময় বাইক রেখে চলে যায়। আমরা তখন ১নং কল্যানি ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সামছুল হক লিপু মেম্বারকে খবর দিয়ে ঘটনা খুলে বলে বাইকের চাবি মেম্বারের হেফাজতে দেই। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে ১নং কল্যানি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ শফিকুল (মেম্বার), ও ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার সামছুল হক লিপু পাওনা টাকা তুলে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়ে বড়দারগা বাজার সংলগ্ন আইডিয়াল স্কুলের মাঠে আগে থেকে সুপরিকল্পিতভাবে ৬০ থেকে ৭০ জনকে নিয়ে তারা বৈঠকে বসে। হঠাৎ আমাদেরকে রাতে ওই বৈঠকে ডাক দিলে আমার বাবাসহ তিন ভাই বৈঠকে যাই। বৈঠকে ৬ মেম্বার আর দুইজন প্যানেল চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক চলাকালে শেষের দিকে আমি শুকুরানা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলার সময় নজরুল মিস্ত্রি লোকজন জাহিদুল ব্যাপারি বলে ধর বলার সাথে সাথে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক শহিদুল খলিফা, খোরশেদ আলম, জিহাদসহ আরো অনেকে আমিসহ আমার বাবা ও ভাইদেরকে এলোপাতাড়ি চর ঘুশি, চেয়ার, কেচি, লাঠি দিয়ে মারডাং করতে থাকে। আমার গলাচিপে ধরে শ্বাসরোধ করে। আমার অন্ডকোষে লাথি মারে এবং এক পর্যায়ে নজরুল মিস্ত্রি আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কাঁচি দিয়ে মাথায় আঘাত করে গভীর ক্ষত হয়। এবং আমি সঙ্গে সঙ্গে অজ্ঞান হয়ে যাই। উপস্থিত মেম্বার ও প্যানেল চেয়ারম্যানগনসহ আরো কয়েকজন আমাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভর্তি করেন। সেখানে আমার মাথা দুইটা সেলাই পড়ে। রংপুর মেডিকেলে আমি পাঁচ দিন চিকিৎসা নিয়ে বাসায় চলে আসি।
