মোঃ সহিদুল ইসলাম, মধুখালী প্রতিনিধি
ফরিদপুরের মধুখালীতে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামে কালীগঙ্গা নদীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র গঙ্গাস্নান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১ ফেব্রয়ারী) সকাল সাড়ে ৭টা থেকেই কুমার নদীর তীরে হাজার হাজার ভক্ত ধর্মীয় আবেগ ও উৎসাহের সঙ্গে গঙ্গাস্নানে অংশ নেন। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত মানুষজন এখানে সমবেত হন। পবিত্র গঙ্গাস্নানের মাধ্যমে তারা নিজেদের ও পরিবারের মঙ্গল কামনার পাশাপাশি দেশ ও জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেন। পূণ্যার্থী গৌতম দাস বলেন, “গঙ্গাস্নানের মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের জন্য আরোগ্য কামনা করেছি। বিশ্বাস করা হয়, এই গঙ্গাস্নানে অতীতের সকল পাপ কর্ম ম্লান হয়। এখানে এসে মনে হয় সব মনোবেদনা দূরে সরে যায়।” আরেক পুণ্যার্থী অসীম বিশ্বাস বলেন, “এত ভক্ত একত্রিত হয়ে গঙ্গাস্নানে অংশ নিলে সত্যিই এক বিশেষ অনুভূতি তৈরি হয়। গঙ্গাস্নানের মাধ্যমে অতীতের পাপ মোচন হয়।” এ সময় উপস্থিত ছিলেন রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন মিয়া, জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মাহাব্বাত হায় মিয়া, রায়পুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক শেখসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। পুরোহিত কাঙ্গাল অনিল সাধু বলেন, “শাস্ত্র মতে পবিত্র গঙ্গাস্নানের মাধ্যমে মানুষের পাপ মোচন হয় এবং ভক্তরা ভগবানের বিশেষ আশীর্বাদ লাভ করেন। গঙ্গা মাকে পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পবিত্র স্নানের মাধ্যমে মন ও আত্মা পরিশুদ্ধ হয়। গঙ্গাস্নান উপলক্ষে কুমার নদীর তীরে ঐতিহ্যবাহী লোকজ মেলা বসে। মেলায় নাগরদোলা, বাহারী খাবারের দোকান, মিষ্টান্ন, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন লোকজ মেলা বসে। মধুখালী থানার উপপরিদর্শক মাসুদ রানা বলেন, “গঙ্গাস্নান উপলক্ষে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং স্বেচ্ছাসেবকরা সার্বিক সহায়তা করছেন। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। উল্লেখ্য, কালীগঙ্গা এলাকার কুমার নদীতে গঙ্গাস্নানের এই ঐতিহ্য বহু বছর ধরে চলে আসছে। প্রতিবছর মাঘী পূণিমায় এখানে পবিত্র গঙ্গাস্নান অনুষ্ঠিত হয়, যা স্থানীয় কাছে একটি গুরত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।
