ePaper

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রথম নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য হলেন রুমিন ফারহানা

(শেখ নাদিম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি)

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন রুমিন ফারহানা। এর মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা থেকে প্রথমবারের মতো কোনো নারী সরাসরি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন। এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ছিলেন তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাঁস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন রুমিন ফারহানা। গণনায় তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ–সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। তিনি খেজুরগাছ প্রতীকে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জাতীয় সংসদের আসন আছে ছয়টি। এবারের নির্বাচনে জেলায় চারজন নারী প্রার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে শুরু থেকেই আলোচনায় ছিলেন রুমিন ফারহানা। অন্য নারী প্রার্থীরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে আমজনতার দলের শরিফা আক্তার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী আশেয়া আক্তার এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী নাহিদা জাহান। তাঁরা কেউই উল্লেখযোগ্য ভোট পাননি এবং জামানত হারানোর মুখে পড়েছেন।

নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র হিসেবে অংশ নিয়ে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ায় রুমিন ফারহানা আলাদা করে আলোচনায় আসেন। সারা দেশে এবার ৮৬ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁদের মধ্যে বিজয়ী হন ৭ জন। বিজয়ীদের মধ্যে ৬ জন ছিলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং শুধু স্বতন্ত্র ছিলেন শুধু রুমিন ফারহানা।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ থেকেই মাঠে সক্রিয় ছিলেন রুমিন ফারহানা। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। এতে তিনি দলীয় পদ হারান এবং দল থেকে বহিষ্কৃত হন। তবে মাঠপর্যায়ে নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল উল্লেখযোগ্য।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই মাঠে সক্রিয় ছিলেন রুমিন ফারহানা। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। এতে তিনি দলীয় পদ হারান এবং দল থেকে বহিষ্কৃত হন। তবে মাঠপর্যায়ে নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল উল্লেখযোগ্য।

রাজনৈতিকভাবে এ আসনের সঙ্গে রুমিন ফারহানার পারিবারিক ইতিহাসও আছে। তাঁর বাবা ভাষাসংগ্রামী অলি আহাদ ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যদিও পরে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল নৌকা প্রতীকের প্রার্থী তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে।এ জেলায় এর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন কবীরের স্ত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র নায়ার কবীর। বিতর্কিত ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোটের শরিক জাপার জিয়াউল হক মৃধা ৩৭ হাজার ৫০৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন নায়ার কবীর। তিনি পেয়েছিলেন ৩০ হাজার ৪৬ ভোট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *