ePaper

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য দিবস উপলক্ষে ইবিতে র‌্যালি

Oplus_131072

ইবি প্রতিনিধি:

‘খাদ্য হোক নিরাপদ, সুস্থ থাকুক জনগণ’ স্লোগানকে সামনে রেখে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য দিবস পালিত হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ ভবনের সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালিতে শিক্ষার্থীদের হাতে “স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল, নিরাপদ্য খাদ্যে তার সমতুল; ভেজালমুক্ত খাদ্য, সুস্থ জাতি, নিরাপদ বাংলাদেশ আমাদের লক্ষ্য; ভেজালকে “না” বলুন, নিরাপদ খাদ্য বেছে নিন; জাঙ্ক ফুড বর্জন করি, স্বাস্থ্যকর জীবন গড়ি; খাদ্য হোক নিরাপদ, সুস্থ্য থাকুক জনগণ” ইত্যাদি সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. হাফিজুর রহমান, অধ্যাপক ড. এ. এস. এম আয়নুল হক আকন্দ। এছাড়াও বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় অধ্যাপক ড. মো. হাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর ২ ফেব্রুয়ারি নিরাপদ খাদ্য দিবস পালন করা হয়। এ বছর ‘নিরাপদ খাদ্য হোক সবার জন্য সুস্থতার নিয়ামক’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জনগণের মধ্যে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে র?্যালির আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, একটি জাতির সুস্বাস্থ্য ও টেকসই উন্নয়নের জন্য নিরাপদ খাদ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। ভেজালমুক্ত, ক্ষতিকর রাসায়নিকমুক্ত এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রস্তুত খাদ্য নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তিনি আরও বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায় এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগ—এই তিন স্তরের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই আজকের এই আয়োজন। নিরাপদ খাদ্য বলতে শুধু ভেজালমুক্ত খাবার নয়, বরং সঠিক স্যানিটেশন ও হাইজেন মেনে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করাও এর অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও তিনি জানান, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ বাস্তবায়ন, ব্যবসায়ী ও কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐঅঈঈচ, এগচ ও ফুড সেফটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া জরুরি। তিনি ভেজাল খাদ্যের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রতি বছর ২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস পালিত হয়। ২০১৮ সালে প্রথম উদযাপিত এই দিবসের মূল লক্ষ্য হলো উৎপাদন থেকে পরিবেশন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে খাদ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমানো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *