আন্তর্জাতিক ডেস্ক
চলমান সরকারি বিরোধী বিক্ষোভ দমন করতে পুলিশ-নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি নিয়মিত সেনাবাহিনী এবং সেনাবাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রিপাবলিক গার্ড কর্পসকেও মোতায়েন করেছে ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামিক প্রজাতন্ত্র সরকার। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভাকারীদের চোখ ও মাথা লক্ষ্য করে গুলি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইরানের হাসপাতালের একাধিক ডাক্তার ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তেহরানের এক হাসপাতালের এক ডাক্তার বলেছেন, “সশস্ত্র বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে বিক্ষোভকারীদের চোখ ও মাথা লক্ষ্য করে গুলি করছে। আমাদের হাসপাতালে গতকাল চার শতাধিক হতাহত এসেছেন, যাদের চোখে ও মাথায় গুলির ক্ষত রয়েছে।”ওই চিকিৎসক আরও বলেন, “যারা আগ্নেয়াস্ত্র থেকে ছোড়া গুলিতে বিদ্ধ হয়েছেন, তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। যারা রাবার বুলেটে বিদ্ধ হয়েছেন, তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে বাঁচানো হয়তো সম্ভব হবে, কিন্তু তারা চিরতরে অন্ধ হয়ে যাবেন।”গত দু’সপ্তাহ ধরে ব্যাপক আকারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে ইরানে। দিন যতো গড়াচ্ছে, আন্দোলনের মাত্রাও তত তীব্র হচ্ছে।এই আন্দোলন বিক্ষোভের প্রধান কারণ অর্থনীতি। বছরে পর বছর ধরে অবমূল্যায়নের জেরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। অর্থাৎ ইরানে এখন এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল।
জাতীয় মুদ্রার এই দুরাবস্থার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে ইরানে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছেন ইরানের সাধারণ জনগণ। এই পরিস্থিতিতে গত গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের।
