ফুলগাজী, ফেনী প্রতিনিধি
ফেনীতে আন্ত:ধর্মীয় সম্প্রীতি : বাস্তবতা ও করনীয় শীর্ষক আঞ্চলিক সংলাপ অনুষ্টিত হয়েছে। ‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে শনিবার সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে এ আয়োজন করে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ফাতিমা সুলতানা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন হাঙ্গার প্রজেক্টের এআইপিএস প্রকল্পের এরিয়া কো-অর্ডিনেটর রাসেল আহমেদ। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারি পরিচালক শাহাদাত উল্যাহর সভাপতিত্বে ও আবৃত্তি শিল্পী সৈয়দ আশ্রাফুল হক আরমানের পরিচালনায় সংলাপে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলাম ধর্মের প্রতিনিধি কুঠিরহাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা নুরুল করিম, হিন্দুধর্মীয় প্রতিনিধি নারায়ন চন্দ্র চক্রবর্তী, খ্রিষ্টান ধর্মীয় প্রতিনিধি সুবির সরকার দিলু, বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রতিনিধি স্মৃতি রত্ম ভিক্ষু, পিস এম্বাসেডর নেটওয়ার্ক এর জয়েন্ট কো-অর্ডিনেটর নাজনিন আক্তার নিপা, কামরুল হাসান লিটন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি) এর পরশুরাম উপজেলার পিস এম্বাসেডর জোহরা আক্তার রুমা। ঘোষণাপত্র পাঠ করেন পিএফজি ফেনী সদর উপজেলার সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস মিতা।
উম্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন জেলা হাফেজ পরিষদ সভাপতি হাফেজ জাকির হোসেন মজুমদার, হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ সভাপতি শুকদেব নাথ তপন, ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মী আ.ন.ম আবদুর রহীম, পুরোহিত বিজয় চক্রবর্তী, এডভোকেট আবদুল ওয়াদুদ শাহী, এডভোকেট সরোয়ার হোসেন লাভলু, সাংবাদিক আরিফুর রহমান, আরিফুর রহমান স্বপন, শেখ আবদুল হান্নান ও জাবেদ হোসেন মামুন, আশীষ দত্ত, পিস এ্যাম্বাসেডর ফরিদা ইয়াসমিন, জাহানারা আক্তার মনি, ফরিদা আক্তার মায়া, নাজমুন নাহার নুপুর, মিরাজ হোসেন, নজরুল ইসলাম, ওমর ফারুক, ইমাম উদ্দিন, আফরোজা সুলতানা, জাফর আহমেদ, আনিসুল আলম, ফারুক চৌধুরী, গোলাম রসুল মজুমদার গোলাপ, মাওলানা আব্দুল মতিন, কবির আহমেদ নাছির, সাহেদ চৌধুরী, নুরুল হুদা শাহীন। অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে সার্বিক সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন প্রকল্পের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর খোদেজা বেগম।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ফাতিমা সুলতানা বলেন, “বাংলাদেশ অসম্প্রদায়িক দেশ। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। পাশপাশি হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ধর্মসহ সকল ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় থাকে। একে অপরের প্রতি সহমর্মিতা রয়েছে। বাংলাদেশে একেরপর এক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের সহমর্মিতা ও সৌহার্দের পরিবর্তন হয়নি। বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরনে এবং বিভিন্নধরনের তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে ছোট ছোট কিছু বিষয় নিয়ে সংঘাত মনে করি। ব্যক্তিগত অপকথা, খারাপ কোনো উদ্দেশ্য এমনকি অপরাজনীতির বশবর্তী হয়ে সংঘাত দেখতে পাই। বৈচিত্রপূর্ণ এবং মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশে এসবের স্থান নেই।”মাওলানা নূরুল করিম বলেন, “আমাদের বাংলাদেশে ধর্মী কোন কোন্দল নেই। বিশেষ করে আমাদের ফেনী। ফেনী বড় মসজিদের পাশে মন্দির, জহিরিয়ার পাশে মন্দির। কেউ কারো দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে না। অনেকের রাষ্ট্রীয় স্বার্থ হাছিলের জন্য নিজেদের সংঘাতকে ধর্মীয় সংঘাত হিসেবে চালিয়ে দিয়ে থাকি। আমরা যদি পূর্ণাঙ্গ ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করি তাহলে আমাদের দ্বারা ধর্মীয় বিভেদ সম্ভব নয়।”
নারায়ন চন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, “আমরা যদি আমাদের মানসিকতাকে পরিবর্তন করি এবং সে পরিবর্তন যদি আমরা আমাদের সন্তানদেরকে শিক্ষা দিতে পারি তাহলে পরিবার থেকে সমাজ, সমাজ থেকে ধর্মীয় উপসনালয়ের মাধ্যমে পরিবর্তন হবে। সন্তানদের উচ্চ শিক্ষার মাধ্যমে যদি গড়ে তুলতে পারি তাহলে আমাদের যে সম্প্রীতির সংস্কৃতি তা অবশ্যই থাকবে।”
সুবির সরকার দিলু বলেন, “আমরা দেখতে পাই যে মসজিদের পাশে মন্দির রয়েছে এবং খ্রিস্টান চার্জের পাশে মসজিদ রয়েছে। এটা তো সম্প্রীতির লক্ষণ। কিন্তু কেন এ সম্প্রীতি বারবার বিনষ্ট হচ্ছে মনে করতেছি কেন? মনের মধ্যে যদি কুচিন্তা থাকে যে অন্যকে ক্ষতি করবো তাহলে অবশ্যই ক্ষতি করা যায়। আমার ধর্মকে যদি আমি লালন করি তাহলে অবশ্য আমি মনে করি আমার দ্বারা সম্প্রীতি বিনষ্ট হতে পারে না। কারণ আমরা পরস্পরকে ভালোবাসি। পরস্পরকে ভালোবাসলে সম্প্রীতি বিনষ্ট হয় না।”
স্মৃতি রত্ম ভিক্ষু বলেন, “আমরা সবাই এক। আমাদের সবাইকে মিলেমিশে থাকতে হবে। রক্তের বন্ধনের মত আমাদেরকে থাকতে হবে।
