ePaper

ফরিদপুরে এবারই প্রথম মিলছেনা ঐতিহ্যবাহী কাটাগড় মেলা নেপথ্যে বিএনপির কোন্দল

সবুজ দাস, ফরিদপুর

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে সাড়ে তিনশ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘কাটাগড় দেওয়ান শাগির শাহ’ গ্রামীণ মেলাটি এ বছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। জানা গেছে স্থানীয় দুই পক্ষের কোন্দল এবং দুই পক্ষ থেকে মেলা আয়োজনের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করায় কোন আবেদনই আমলে নেয়নি প্রশাসন। সত্যতা নিশ্চিত করে বোয়ালমারীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, মেলা মিলানোর জন্য দুই পক্ষ দুইটি কমিটির অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেছিলেন। তাদেরকে বলা হয়েছে দুই পক্ষ যদি এক হতে পারে তাহলে মেলার আয়োজনে কোন সমস্যা নেই। বোয়ালমারী উপজেলার রূপপাত ইউনিয়নের কাটাগড় গ্রামে অব¯ি’ত দেওয়ার শাগির শাহ্ (র.) ওফাত (মৃত্যু) দিবস উপলক্ষে উরস অনুষ্ঠিত হয়। এ উরসকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর ১২ চৈত্র এ মেলার আয়োজন করা হয়। ১২ চৈত্র মেলাটি শুরু হলেও চলে মাসব্যাপি। এলাকাবাসী জানায়, চলতি বছর এ মেলার ৩৫১ বারের আয়োজন হওয়ার কথা ছিল। শুরুর পর থেকে আজ পর্যন্ত কোন কারণেই মেলাটি এ পর্যন্ত বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। এমনকি করোনা মহামারির সময়েও (২০২১) স্বল্প পরিসরে এ মেলার আয়োজন করা হয়। উনবিংশ শতকের চল্লিশের দশকের কোনো এ বছর ১২ চৈত্র শাগির শাহে (রহ.) মৃত্যু হয়। তখন থেকেই তাঁর উফাত দিবস (মৃত্যু দিবস) উপলক্ষে সারাদেশ থেকে হাজার হাজার ভক্তবৃন্দ সমবেত হন কাটাগড়ে শাগির শাহর মাজারে। মাজারের পাশে মাঠে ঘোড় দৌড় হয়, মেলা বসে, ফকির ফকির-সন্ন্যাসী ভক্তরা আসর জমান ভক্তিমূলক সংগীতের মাধ্যমে। দেশের দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা বিভিন্ন মানত নিয়ে আসেন। মেলা দেখার জন্য মেলার আশপাশের গ্রামগুলোতে দূর দুরান্ত থেকে আত্মীয়-স্বজনের ভীড়ে উৎসবের

আমেজ বিরাজ করে। তবে এবছরের ছবিটা ভিন্ন। এলাকাবাসী ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আগামী ২৫ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত এ মেলা আয়োজনের অনুমতি চেয়ে রূপাপাত ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আক্কাচ ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. আনিচুর রহমান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মেলা আয়োজনের জন্য গত ৫ মার্চ আবেদন করে। এরা বিবাদমান বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-১ আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী শামচুউদ্দিন মিয়া ওরফে ঝুনুর সমর্থক। অপরদিকে ওরস উপলক্ষে সাতদিনের জন্য মেলা আয়োজনের আবেদন জানিয়ে গত ১৬ মার্চ জেলা প্রশাসক কাছে ‘কাটাগড় দেওয়ান শাগির শাহ (রহ.) মাজারের খাদেম মো. ইরাদত ফকিরকে দিয়ে আবেদন করান বিবাদমান বোয়ালমারী বিএনপির অপর অংশ। এদের মধ্য রয়েছেন রূপাপাত ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ওরফে সোনা মিয়া, ইউপি কৃষক দলের শাহীন মোল্লা, এক নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আক্কাস শেখ প্রমুখ। এরা কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও আগামী সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সমর্থক। মেলা আয়োজন নিয়ে দুটি পক্ষ হওয়ায় এই দুই পক্ষের মধ্যে গত ১৫ মার্চ বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির বিবাদমান দুই নেতার সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষের বিষয় নিয়ে স্থানীয় থানায় দুইপক্ষের পাল্টপাল্টি মামলা হয়েছে। এ নিয়ে বিবদমান দুইটি পক্ষ মানববন্ধনও করেছে। যার কারনে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা

রক্ষার্থে প্রশাসন মেলার অনুমতি দেননি। উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শামচুউদ্দিন মিয়া ওরফে ঝুনু বলেন, এ মেলা আয়োজনের জন্য ওই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করে মেলা আয়োজনের জন্য অনুমতি চান। এসময় আওয়ামী লীগ সমর্থিত একটি অংশ যারা খন্দকার নাসিরের অনুসারিরা পাল্টা আবেদন জানায়। পাশাপাশি নাসিরের সমর্থকরা হামলা চালিয়ে বিএনপির কর্মী সমর্থকদের উপর নির্যাতন করে। খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন বিএনপির কোন সমস্যা বা দ্বন্দ্বের কারনে মেলা বন্ধ হয়নি। মূল সমস্যা হচ্ছে মেলা উপলক্ষে যে টাকা পয়সা ওঠে তার ভাগাভাগি নিয়ে। এতো দিন আওয়ামী লীগের টাকা খেত এখন অন্যরা খেতে চচ্ছে। এর মধ্যে বিএনপির লোক যে নেই তা বলা যাবে না। ‘ওখানে আমার কোন পক্ষ নেই’-মন্তব্য করে খন্দকার নাসিরুল বলেন, নিজের স্বার্থের জন্য সুবিধা পাওয়ার জন্য অনেকে ‘অমুকের লোক’, ‘তমুকের লোক’ পরিচয় দিয়ে ফায়দা তোলার চেষ্টা করে। বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, মেলা নিয়ে স্থানীয় দুটি পক্ষ সৃষ্টি হয়েছে। তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। দুইপক্ষের মামলা করেছে। মেলার আগেই যদি এই অবস্থা হয় তাহলে মেলার সময় বা পরে আরো খারাপ অবস্থা হতে পারে। এজন্য আইন শৃঙ্খলা খারাপ হতে পারে এই আশংকায় মেলার অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ইউএনও তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, মেলা না হলেও ওরশ শরীফ করতে কোন বাধা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *