হামিদুল্লাহ সরকার,
শীতে নেই যাত্রী, বসে আছেন রিকশাচালকরা
নীলফামারীর ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশার সঙ্গে ঠান্ডা বাতাসে নাকাল হয়ে পড়েছে জনজীবন। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে ছিন্নমূল মানুষ।অপরদিকে, দৃষ্টিসীমা ছিল দেড় থেকে ২০০ মিটার। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আরও কয়েকদিন মৃদু শৈত্যপ্রবাহ থেকে শৈত্য প্রবাহ হতে পারে।গত তিন দিনে ঘণ্টাখানেকের মতো সূর্যের দেখা মিললেও দুপুরের পর থেকে ঢেকে যায় ঘন কুয়াশায়। ফলে শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে জেলা সদরসহ ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর উপজেলা। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এ জেলায় হিমেল বাতাস, ঘন কুয়াশা ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো শিশির কণা ঝরছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন।চলতি মৌসুমের তৃতীয় দফার এই শৈত্যপ্রবাহে সূর্যের দেখা মিলছে না বললেই চলে। ফলে রাস্তাঘাট ক্ষেত খামারে এমনকি পথচারীরা বাড়ির বাইরে বিনা প্রয়োজনে বের হচ্ছে না। এদিকে, হেড লাইট জ্বালিয়ে দূরপাল্লার ভারী যানবাহনসহ মোটরসাইকেল গুলো চলাচল করছে। এতে করে সড়কে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি।এই অবস্থায় বেশি বিপাকে পড়েছেন বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থী, দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও ছিন্নমূল মানুষ। কাজে বের হতে না পেরে অনেকেই আয়-রোজগার হারাচ্ছেন। খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারী মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। এসব মানুষ কিছু দিন আগে দুয়েকটি কম্বল পেলেও এখন আর শীতবস্ত্রের দেখা মিলছে না।জেলা শহরের বড় বাজার ট্রাফিক মোড়ের রিকশাচালক আবু তালেব, লিটন, মমিনুর বলেন, আমাদের পরিবারের খাবার জোগার দিতে হয় রিকশা চালিয়ে। গত তিন দিন ধরে সকালে স্ট্যান্ডে আসি বসি থাকি, কিন্ত যাত্রী নাই, শহর একবারেই ফাঁকা। লোকজনের দেখা মিলছে না।জানতে চাইলে বলেন, এখন বাজে সাড়ে ৯টা ভাড়া মারাতো দূরের কথা, নাশতার টাকা কামাই হয় নাই। সংসার চলবে কী দিয়ে আল্লাই জানে। শোনা যাচ্ছে, আকাশের এমন আবহাওয়া আরও দুয়েকদিন থাকবে।তীব্র শীতের প্রভাবে নীলফামারী ২৫০ শয্যা বিশিস্ট জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার ছয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াজনিত রোগ নিয়ে প্রতিদিন রোগীরা হাসপাতালে ভিড় করছেন।ওই হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল আউয়াল জানান, চিকিৎসাসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের বাড়তি সতর্কতামূলক নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এসব রোগে আক্রান্ত হলে দ্রুত স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিক অথবা হাসপাতালে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে।
নীলফামারীতে শীতে নাজেহাল জনজীবন
