ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার বা কোনো ধরনের অপরাধে জড়িত থাকলে নিজের দলের লোককেও ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমার দলের কেউ যদি কোনো ধরনের দুর্বৃত্তায়ন বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে, আমাদের জানাবেন। আমরা সাথে সাথে ব্যবস্থা নেব। আওয়ামী লীগ যা করেছে, আমার দলের লোককে আমরা তা করতে দেব না।” রোববার সদরের বরুনাগাঁও মাদ্রাসা মাঠ ও চেরাডাঙ্গী এলাকায় গণসংযোগের তৃতীয় দিনে পৃথক দুটি পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।ভোটারদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, “আগে আমরা সবসময় নৌকা আর ধানের শীষের লড়াই দেখে অভ্যস্ত ছিলাম। এখন নতুন করে একটি মার্কা (দাঁড়িপাল্লা) সামনে এসেছে, যা এ অঞ্চলের মানুষের কাছে ততটা পরিচিত নয়। জামায়াত পুরনো দল হলেও আমাদের এই অঞ্চলে তাদের প্রভাব আগে সেভাবে ছিল না।”তিনি বিএনপি ও জামায়াতের পার্থক্য তুলে ধরে বলেন, “বিএনপি একটি পরীক্ষিত দল, যারা পাঁচবার সুনামের সঙ্গে সরকার চালিয়েছে। আমরা রাজনীতি করে সম্পদ বাড়াইনি, বরং বাপ-দাদার জমি বিক্রি করে রাজনীতি করেছি।”বিগত সরকারের আমলকে ‘তাড়া খাওয়ার সময়’ উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “গত ১৫ বছর পুলিশ আমাদের তাড়িয়ে বেড়িয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার প্রায় ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছিল। আমার নিজের বিরুদ্ধেই ১১১টি মামলা হয়েছে, ১১ বার জেলে যেতে হয়েছে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ৬ বছর এবং তারেক রহমান ১৮ বছর নির্বাসনে ছিলেন। জুলাই আন্দোলনের পর সেই দমবন্ধ করা পরিস্থিতি থেকে আমরা মুক্তি পেয়েছি।”চেরাডাঙ্গীর পথসভায় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে ফখরুল বলেন, “জুলাই আন্দোলনের পর আমরা মুক্ত বাতাস পেয়েছি। এখন আমাদের দায়িত্ব সুন্দর দিন তৈরি করা, হানাহানি বন্ধ করা। ওরা (আওয়ামী লীগ) মামলাবাজি করেছে বলে আমাদেরও তা করতে হবে এমনটা ভাবা যাবে না। এটা কোনো আপস নয়, বরং এটি ভ্রাতৃত্ববোধের এক নতুন সমাজ তৈরির লড়াই। একে অপরের বিরুদ্ধে হিংসা ছড়ানো বন্ধ করতে হবে।”সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, “হিন্দু ভাই-বোনদের বলছি, আপনারা নিজেরা শক্ত হোন। প্রতিরোধ গড়ার সাহস অর্জন করুন। নিজের ভোট যাকে খুশি তাকে দেবেন। এর জন্য কেন আপনাদের নির্যাতনের শিকার হতে হবে? যারা এমনটা করে, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না।”জামায়াতের নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, “১৯৭১ সালে আমরা এই মার্কাকে দেখেছি। তারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল, আমাদের মা-বোনদের তুলে দিয়েছিল। এটি ঐতিহাসিক সত্য। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আপনাদের সঠিক পথ বেছে নিতে হবে।”এ সময় জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
