সৌমিত্র সুমন,কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি :
সমুদ্রের পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধির প্রভাবে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে জোয়ারের সঙ্গে ভেসে আসছে অসংখ্য মৃত ও জীবিত জেলিফিশ। দীর্ঘ ২২ কিলোমিটার সৈকতের একাধিক পয়েন্টে বালুতে আটকে থাকা এসব জেলিফিশ নিয়ে স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত শুক্রবার থেকে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সৈকতের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মৃত জেলিফিশ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে একদিকে যেমন পর্যটকরা বিরক্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে পরিবেশ দূষণের আশঙ্কাও বাড়ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, জোয়ারের পানির সঙ্গে ভেসে আসা জেলিফিশগুলোর কোনোটি আকারে ছোট, আবার কোনোটি বেশ বড়। দেখতে অনেকটা অক্টোপাসের মতো হলেও স্থানীয় জেলেদের কাছে এগুলো ‘লোনা’ নামে পরিচিত। দুর্গন্ধের কারণে পর্যটকরা কাছে গিয়ে এগুলো দেখতে পারছেন না। কেউ কেউ বাতাসের বিপরীত দিকে দাঁড়িয়ে দূর থেকে দেখছেন। পর্যটক রাব্বি বলেন, “জেলিফিশের নাম শুনেছি, কিন্তু এত কাছ থেকে এবং এত সংখ্যায় আগে কখনও দেখিনি। দ্রুত এগুলো সরানো না হলে পচে গিয়ে সৈকতের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হবে।”স্থানীয় জেলে মো. জলিল জানান,“পাঁচ-ছয় দিন আগে আমাদের জালে বিপুল পরিমাণ জেলিফিশ ধরা পড়ে। পরে জাল পরিষ্কার করতে সেগুলো সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।”ফিশারিজ বিভাগের গবেষকদের মতে, জেলিফিশ সাধারণত গভীর সমুদ্রের প্রাণী। সমুদ্রের পানিতে পরিবেশগত পরিবর্তন বা কোনো ধরনের বিপর্যয় ঘটলে এসব প্রাণী উপকূলের কাছাকাছি চলে আসে, যা উদ্বেগজনক ইঙ্গিত বহন করে। জেলিফিশের শরীরে থাকা বিশেষ দংশন কোষ স্পর্শ করলে ত্বকে চুলকানি, ঘা এমনকি গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে। যদিও উন্নত কিছু দেশে জেলিফিশ উচ্চমূল্যের খাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে অসংখ্য জেলিফিশ বালুতে আটকে থাকতে দেখা যাচ্ছে। এগুলো বালুর নিচে চাপা দিলে দুর্গন্ধ ছড়ানোর ঝুঁকি কিছুটা কমবে।”
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, “জেলেদের জালে আটকা পড়ে মারা যাওয়া জেলিফিশগুলো পরে সমুদ্রে ফেলে দেওয়ায় সেগুলো ভেসে এসে কুয়াকাটা সৈকতের বেলাভূমিতে আটকে পড়ছে।” কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসিন সাদেক জানান, “পর্যটকদের নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষার কথা বিবেচনায় নিয়ে মৃত জেলিফিশগুলো দ্রুত অপসারণ করে বালুতে পুঁতে ফেলার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা)-এর যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, “মৃত জেলিফিশগুলো পচে সৈকতে পড়ে থাকলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। কেন এত জেলিফিশ মারা যাচ্ছে, সে বিষয়ে দ্রুত গবেষণা জরুরি।”উল্লেখ্য, এর আগে ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসেও কুয়াকাটা সৈকতে একইভাবে বিপুল সংখ্যক জেলিফিশ ভেসে আসার ঘটনা ঘটেছিল।
