ePaper

দালালমুক্ত ভূমি সেবায় ইতিহাস গড়ল কোম্পানীগঞ্জ: সেবা প্রদানে রেকর্ড, দালাল ধরিয়ে দিলে পুরস্কারের ঘোষণা

কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে দালালচক্রের অবসান ঘটিয়ে স্বচ্ছ ও জনবান্ধব ভূমি সেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া বিনতে কাশেম ভূমি অফিসকে আনুষ্ঠানিকভাবে দালালমুক্ত ঘোষণা করে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। একই সঙ্গে দালাল ধরিয়ে দিলে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।সামবার (২৬জানুয়ারী) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নামজারি, জমি পরিমাপ ও মিসকেইসসহ সব ধরনের ভূমি সেবায় এখন আর কোনো দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন নেই। সেবা প্রত্যাশীরা সরাসরি অফিসে এসে দ্রুত সময়ের মধ্যেই কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে কোম্পানীগঞ্জে ভূমি সেবায় সর্বোচ্চ সাফল্যের বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদানের পর থেকেই রুবাইয়া বিনতে কাশেম ভূমি অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। ধারাবাহিক অভিযান, প্রশাসনিক নজরদারি ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দালালচক্র নির্মূলে সফল হন তিনি। বর্তমানে অফিসে নেই বস্তাবন্দি ফাইল, নেই অপ্রয়োজনীয় ভিড় কিংবা দালালের আনাগোনা।

ভূমি অফিস সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নামজারিসহ গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিষ্পত্তি হচ্ছে। অফিসে সেবার মান বেড়েছে, কমেছে হয়রানি। দালাল ও প্রতারকচক্র সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।শুধু ভূমি অফিস নয়, উপজেলার হাসপাতাল, ফার্মেসি, খাবার হোটেল, মাটি ও বালু উত্তোলনসহ জনজীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রেকর্ডসংখ্যক অভিযান পরিচালনা করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি)। গত চার মাসে প্রায় ৫৫টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জেল, জরিমানা ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে, যা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় একটি নতুন রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করে সর্বোচ্চ ২৮ দিনের মধ্যে নামজারিসহ বিভিন্ন ভূমি সেবা সম্পন্ন হচ্ছে। কোনো প্রকার অবৈধ লেনদেন ছাড়াই সেবা পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। খাল ও সরকারি সম্পত্তি দখলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাটি ও বালু খেকোদের বিরুদ্ধেও নিয়মিত আপোষহীন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এ অফিসে সপ্তাহে একদিন মিসকেইস শুনানির প্রচলন থাকলেও বাস্তবে প্রায় প্রতিদিনই শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া বিনতে কাশেম জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অনলাইনে আবেদন ও নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমেই ভূমি সেবা প্রদান করা হচ্ছে। অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত একটি চক্র বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে, তবে এতে প্রশাসনের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি। তিনি সকল সেবা প্রত্যাশীকে কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি ভূমি অফিসে এসে সেবা গ্রহণের আহ্বান জানান।

মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই কোম্পানীগঞ্জ ভূমি অফিস জনআস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। সৎ, দক্ষ ও কর্মনিষ্ঠ প্রশাসনের মাধ্যমে কীভাবে একটি অফিসে আমূল পরিবর্তন আনা যায়, তার বাস্তব উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এই উদ্যোগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *