লিয়াকত আলী, লালমনিরহাট
গ্রামবাংলার কৃষক ও সাধারণ মানুষের মাঝে জিংক সমৃদ্ধ ধানের বীজ ও চাষাবাদ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে লালমনিরহাট জেলায় মাইকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে নিউট্রিসিয়াস এগ্রিফিউচার বাংলাদেশ লিমিটেড। হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশের উদ্যোগে বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে সম্প্রতি এই প্রচারণা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। নিউট্রিসিয়াস এগ্রিফিউচার বাংলাদেশ লিমিটেড ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ জৈব-ফর্টিফায়েড খাদ্য ফসলের উন্নয়ন ও প্রসারের মাধ্যমে পুষ্টি ও জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক খাদ্য নীতি গবেষণা ইনস্টিটিউট (ওঋচজও)-এর অংশ হিসেবে ঈএওঅজ-এর সহযোগিতায় হারভেস্টপ্লাস বিশ্বব্যাপী জিংক সমৃদ্ধ ধানসহ পুষ্টিকর খাদ্য ফসলের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। মাইকিংয়ের মাধ্যমে কৃষক ও গ্রামবাসীদের জানানো হচ্ছে, মানবদেহে জিংক একটি অত্যাবশ্যক খনিজ উপাদান। এটি শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নারীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জিংক সমৃদ্ধ ধান নিয়মিত খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকলে প্রতিদিনের জিংক ঘাটতি অনেকাংশে পূরণ করা সম্ভব। যেসকল কৃষক এখনো জিংক ধানের বীজের জাত, চাষাবাদ পদ্ধতি কিংবা বিক্রয়কেন্দ্র সম্পর্কে অবগত নন, এই মাইকিং কর্মসূচি তাদের জন্য কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে কাজ করছে। প্রচারণার মাধ্যমে জিংক ধানের বীজ কোথায় পাওয়া যাবে, কোন জাত চাষে ভালো ফলন পাওয়া যায় এবং স্থানীয় খুচরা বিক্রেতাদের তথ্য কৃষকদের জানানো হচ্ছে। হারভেস্টপ্লাস সরকারি ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বীজ ও চাল বিক্রেতাদের সম্পৃক্ত করছে, যাতে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, প্রজনন বয়সী নারী, কিশোরী মেয়ে এবং ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলায় পরিচালিত এই মাইকিং কার্যক্রমে কৃষকদের জিংক ধানের চাষে আগ্রহী করে তোলা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, জিংক সমৃদ্ধ ধান চাষ করলে একদিকে যেমন ভালো ফলন ও আর্থিক লাভ নিশ্চিত হয়, অন্যদিকে পরিবারের জন্য পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত ভাত পাওয়া সম্ভব হয়।
