লিয়াকত হোসেন, ফরিদপুর ব্যুরো:
ফরিদপুরে জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফরিদপুর জেলা প্রশাসন ও পাট অধিদপ্তরের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার(৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১ টায় এ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ফরিদপুর জেলা প্রশাসন ও পাট অধিদপ্তরের উদ্যোগে, জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইয়াসিন কবির,
পাট অধিদপ্তর ফরিদপুরের সহকারী পরিচালক ওমর ফারুক, ফরিদপুর পাট উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা তারেক মোঃ লুৎফুর আমিন, নগরকান্দা উপজেলার পাট চাষী রাশেদ মোল্লা, সালথা উপজেলার পাট চাষী মুক্তার মোল্লা, পাট ব্যবসায়ী সিরাজ খলিফা সহ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন “ফরিদপুর পাট চাষের জন্য প্রযুক্তি উপযুক্ত একটি জেলা। কৃষকরা যাতে ন্যায্য মূল্যে পাট বিক্রি করতে পারেন সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে তা না হলে কৃষকরা ভবিষ্যতে পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। এক্ষেত্রে কৃষকরা যাতে সরাসরি
পাটের মিল মালিকদের কাছে তাদের উৎপাদিত পাট বিক্রি করতে পারে সেজন্য উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।
বক্তারা বলেন মধ্যসত্ত্বভোগী ব্যবসায়ীরা পাটের বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। তারা কৃষকদের কাছে কম দামে পাট কিনে তা উচ্চমূল্যে বিক্রি করে বাজারকে অস্থিতিশীল করছে। এ সকল পাট ব্যবসায়ীরা দীর্ঘ সময়ের জন্য পাট মজুদ করে রাখছে।
সেজন্য কৃষকরা যাতে সরাসরি মিল মালিকদের কাছে পাট বিক্রি করতে পারে সে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ভবিষ্যতে আরো উন্নত জাতের পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহী করে তুলতে হবে।
পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০ অনুযায়ী ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার, চিনি, মরিচ, হলুদ, পেঁয়াজ রসুন সহ সর্বমোট ১৯টি পণ্য মোড়কীকরণে পাটের বস্তার ব্যবহার বাধ্যতামূলক। আগামী মৌসুমে তালিকাভুক্ত চাষীদের এক(০১) কেজি করে পাটের বীজ এবং বারো (১২) কেজি সার প্রদান করা হবে।
এছাড়া পাট পচানোর ক্ষেত্রে কৃষকরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকে। তাই সে ক্ষেত্রে রাস্তার পাশের জলাশয়গুলোকে পাট পচানোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।
তারা বলেন পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহী করে তুলতে হবে। এতে তাদের উৎপাদিত পাট বিদেশ রপ্তানি করে দেশের অর্থনীতিতে আরো উন্নয়নে অবদান রাখা সম্ভব হবে বলে সভায় প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।