শেখ হাসান গফুর, সাতক্ষীরা
আন্তর্জাতিকভাবে প্রবীণদের অধিকার সুরক্ষায় আইনগত বাধ্যতামূলক দলিল প্রণয়নের আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় অঞ্চলের প্রবীণদের বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। গত শনিবার সাতক্ষীরায় জিরো পেইন ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এক অভিজ্ঞতা বিনিময় সভায় এ দাবি জানান মানবাধিকারকর্মী আশেক-ই-এলাহী। তিনি সম্প্রতি জেনেভায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ গঠিত আন্তঃসরকারীয় ওয়ার্কিং গ্রুপ (আইজিডব্লিউজির) প্রথম সভায় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। আশেক-ই-এলাহী বলেন, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে যে সংকট সৃষ্টি হচ্ছে, তা একটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা। প্রবীণদের মানবাধিকার সুরক্ষায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক কনভেনশনে এ বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। তিনি উপকূলীয় এলাকার প্রবীণদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান। জিরো পেইন ক্লাব আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সুভাষ সরকার। স্বাগত বক্তব্য দেন ক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ পবিত্র মোহন দাশ। কবি স. ম. তুহীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও প্রবীণ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. সুশান্ত ঘোষ, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হামিদ, জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন বেলাল, প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার সাংবাদিক কল্যাণ ব্যার্জি, সাতক্ষীরা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি ড. আখতারুজ্জামান এবং ব্যবসায়ী জাকির হোসেন লস্কর শেলী। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন স্বদেশের নির্বাহী প্রধান মাধব দত্ত, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি ফরিদা আক্তার বিউটি, সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ পার, বাসদ নেতা নিত্যানন্দ সরকার, অর্জন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী মহুয়া মঞ্জুরী, আরআরএ-এর নির্বাহী প্রধান আবুল কালাম আজাদ, ব্যাংকার মোফাখার হোসেন, উদীচীর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ও জিরো পেইন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ হোসেন আলী প্রমুখ। সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. সুশান্ত ঘোষকে আহ্বায়ক করে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় নাগরিক সমাজ, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সংহতি গড়ে তুলে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে বাংলাদেশের পক্ষে লবিং প্ল্যাটফর্ম তৈরির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উল্লেখ্য, প্রগতি সংস্থার নির্বাহী প্রধান আশেক-ই-এলাহী এশিয়ার একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের আন্তঃসরকারীয় ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম সভায় অংশগ্রহণ করেন।
