ePaper

জলঢাকায় জামায়াত প্রার্থীর কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ, আল-ফালাহয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি

মনিরুজ্জামান মিলন পাটোয়ারী, জলঢাকা

নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) সংসদীয় আসনে ১১-দলীয় জোট মনোনীত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফির নির্বাচনী কর্মীদের ওপর হামলা, হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে জামায়াত। রবিবার (৮ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টায় জলঢাকা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয় আল-ফালাহ-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আলহাজ্ব কামরুজ্জামান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, চ্যাংমারী মেম্বার পাড়ার বাসিন্দা আতিয়ার রহমান (৮৫), পিতা মৃত তছর উদ্দিন, যিনি জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে কথা বলেছিলেন, তার ওপর পরিকল্পিত ভাবে হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর ছেলে শরিফুল ইসলাম বাবুর নেতৃত্বে ১৫–২০ জনের একটি দল আতিয়ার রহমানের বাড়িতে গিয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তাকে মাটিতে ফেলে বুকের ওপর পা দিয়ে চেপে ধরা হয়। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আহত আতিয়ার রহমানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া শৌলমারী ইউনিয়নে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগে অংশ নেওয়া কয়েকজন নারী কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগও করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শৌলমারী ইউনিয়ন সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফের নেত্রীত্বে ওই সময় তাদের বোরকা টানা-হেঁচড়া করে খুলে ফেলার চেষ্টা করা হয় এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে স্থানীয়রা ও নির্বাচনী কর্মীরা এগিয়ে আসেন। পরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আতিয়ার রহমান গণমাধ্যমকে জানান, এশার নামাজের পর তিনি ঘরে ছিলেন। এ সময় বাড়িতে আমার বৌমারা দাড়িপাল্লা মার্কার নির্বাচনী বৈঠক করেন। হঠাৎ করে ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব সৈয়দ আলী পুত্র শরিফুল ইসলাম বাবু নেত্রীত্বে কয়েকজন গুন্ডা বাহিনী নিয়ে এসে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে। তিনি বাইরে বের হতেই সে কিছু বলার আগেই তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। এতে তার হাত ও মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং রক্তক্ষরণ হয়। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, দাড়িপাল্লা প্রতীকের কর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো, নির্বাচনের পর মামলা দেওয়ার হুমকি এবং ভোটারদের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। এসব ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনের নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *