ePaper

চট্টগ্রাম ৯ আসন বিএনপির কর্মী সভায় ডা. শাহাদাত হোসেন দেশে আবারও উৎসব মূখর নির্বাচনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে

আমিনুল হক শাহীন, চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে দেশে আবারও উৎসব মূখর নির্বাচনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। ২০০১ সালের পর থেকে দেশে কোনো জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত না হওয়ায় নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই অনাস্থা দূর করতে অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিকল্প নেই। ১২ জানুয়ারী বিকালে কালামিয়া বাজারস্থ সিলভার প্যালেস কমিউনিটি সেন্টারে চট্টগ্রাম ৯ আসনের অন্তর্ভুক্ত ১৪টি ওয়ার্ডের কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম ৯ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আলহাজ্ব শামসুল আলমের সভাপতিত্বে ও বিএনপি নেতা আকতার খানের পরিচালনায় এতে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম ৯ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ৯ আসন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী ও মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান। ডা. শাহাদাত বলেন, ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর দেশে আর কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে সীমানা পুনর্নির্ধারণসহ নানা কৌশলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা দখল করে। পরবর্তীতে ধারাবাহিক অপকৌশলের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয় আওয়ামী লীগ। তিনি অভিযোগ করেন, এর ফলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং জনগণের মত প্রকাশের অধিকার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের শাসনব্যবস্থাকে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করতে হলে জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। ভোটাধিকারই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। এই অধিকার ফিরিয়ে না আনলে রাষ্ট্র পরিচালনায় জনআস্থার সংকট আরও গভীর হবে। মেয়র বলেন, দেশ পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা একমাত্র বিএনপিরই রয়েছে। দল পরিচালনা আর দেশ পরিচালনা এক বিষয় নয়, দেশ পরিচালনার জন্য প্রয়োজন অভিজ্ঞতা, দায়িত্বশীলতা ও জনগণের প্রতি জবাবদিহি।অতীত অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে বিএনপিই পারে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে। প্রধান বক্তার বক্তব্যে আবু সুফিয়ান বলেন, চট্টগ্রাম ৯ আসনে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন রিটার্নিং কর্মকর্তা বাতিল করেছিলেন। তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে সেখানেও বাতিল হয়। আমি আশা করেছিলাম তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটে ফিরে আসুক। তিনি থাকলে আরো ভালো হতো, প্রতিযোগিতা হতো। তার প্রার্থীতা বাতিল হওয়ায় আমি খুশি না। তিনি নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহবান জানান। সভাপতির বক্তব্যে শামসুল আলম বলেন, নেতাকর্মীদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষের প্রচার জোরদার করতে হবে। চলমান জনসমর্থনের জোয়ারকে আরও বেগবান করতে হবে। আমি নির্বাচন করলে যেভাবে কাজ করতেন, আবু সুফিয়ানের জন্যও সেভাবে কাজ করতে হবে। আবু সুফিয়ান ভাইকে জয়যুক্ত করতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আবুল হাশেম বক্কর বলেন, আপনারা নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে আসবেন। আপনার ভোট আপনি যাকে খুশি তাকে দেবেন। ধানের শীষের প্রতীক বেছে নেবেন দেশের স্বার্থে। আমাদের লক্ষ্য একটাই, এই নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দেশনায়ক তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী করা। বিএনপি আগামী নির্বাচনে জনগণের রায়ের মাধ্যমেই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চায়। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নাজিমুর রহমান বলেন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ বিজয়ী হবে। আমরা চট্টগ্রাম ৯ আসনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে চাই। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের প্রতীক ধানের শীষে ভোট দিয়ে আবারও বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে হবে। আসুন, আমরা সবাই মিলেমিশে কাজ করে আবু সুফিয়ান সহ বিএনপির প্রার্থীদের বিজয়ী করতে কাজ করি। এতে বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হারুন জামান, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহম্মেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, শিহাব উদ্দিন মুবিন, আহবায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, মো. মহসিন, আনোয়ার হোসেন লিপু, মো. ইসমাইল বালি, কেন্দ্রীয় মহিলাদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা, মহানগর মহিলাদলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি, যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশা প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *