মুরাদ খান, মানিকগঞ্জ
গরুর মাংস দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সাধ্যের বাইরে রয়েছে। অনেকেই পড়ছেন দুশ্চিন্তায়। তবে মানিকগঞ্জের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ মাংস সমিতি। জানা গেছে, প্রতি মাসে ৩০০ থেকে ৪০০টাকা ৯০০ টাকা তো বেশি পড়ছে তাহলে করে জমা রেখে বছর শেষে ঈদের সময় জমানো টাকা দিয়ে পশু কেনা হয়। এ ধরনের সমিতিতে সদস্য সংখ্যা ৩৫ থেকে ৪০ জন পর্যন্ত হয়ে থাকে। ঈদের ৪/৫ দিন আগে গরু, জবাই করে মাংস ভাগ করে নেওয়া হয়। শুধু নিম্নবিত্তের লোকরা এ ধরনের সমিতি করলেও এখন মধ্যবিত্তের পরিবারের সদস্যরা এ সমিতিতে যোগ দিচ্ছেন। গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা এই সমিতে থাকেন। প্রতি মাসে চাঁদা ওঠানোর পর ঈদের আগে হাট থেকে পশু কেনা হয়। এরপর ঈদুল ফিতরের আগের পশু জবাই করে মাংস সমিতির সদস্যরা ভাগবাটোয়ারা করে। এ যেন গ্রাম বাংলার এক প্রচলিত প্রথায় পরিণত হয়েছে। নিয়ামতপুর উপজেলার আটটি ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে ঈদুল ফিতর সামনে রেখে এ ধরনের মাংসের সমিতি গঠন করেন। সমিতির মাধ্যমে মাংস ভাগবাটোয়ারা করে মানুষ ঈদের আগে সবাই বাড়তি আনন্দ ভাগাভাগি করে। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার মাংস সমিতির সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, বাজারে যেভাবে সব নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। তাতে আমাদের মতো মানুষরা গরুর মাংস খাওয়ার কথা ভুলেই গিয়েছি। ঈদের দিন ছেলেমেয়েদের বায়না থাকে গরুর মাংস খাওয়ার। এক সঙ্গে তো অত টাকা জোটানো সম্ভব না। এজন্যই মাংস সমিতির করি। আরেক সদস্য আলতাফ বলেন, আমরা প্রতি মাসে চাঁদা তুলি। এতে সদস্যদের টাকা দিতে কষ্টও কম হয়। মাংস সমিতির মাধ্যমে নিজেরা গরু কিনে এনে ভালো মাংস পাওয়া যায়। বাজারের চেয়ে কেজি প্রতি মাংসের খরচও কম পড়ে। উদ্যোক্তা মো. আজিজ বলেন, সমিতিতে এবার ৪০ জন সদস্য আছে। প্রতি মাসে সদস্য প্রতি ৪০০ টাকা করে আদায় করা হয়। ঈদের আগে গরু কিনে জবাই করে সমিতির সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ মালেক বলেন সারা বছর একটু একটু করে টাকা সঞ্চয় করে ঈদের আগে পশু কিনে জবাই করে মাংস ভাগাভাগি করে ঈদের আনন্দ পেয়ে থাকেন।