ePaper

একইস্থানে শতাধিক বিঘা জমিতে সরিষার চাষ, ফুলের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে প্রকৃতিপ্রেমীদের ভির

 এস এম মিলন রাজবাড়ী প্রতিনিধ :

রাজবাড়ী কালুখালীর পদ্মার শাখা নদীর পারের বিস্তৃর্ণ এলাকার প্রায় শত বিঘা জমিতে চাষ হওয়া সরিষা ফুলের নয়োনাভিরাম হলুদ ফুলের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা, কাটাচ্ছেন প্রিয়জনসহ বন্ধু-বান্ধবের সাথে প্রিয় মুহুর্ত। এ সময় অনেকে আবার তাদের প্রিয় মুহুর্ত ধারন করছেন ক্যামেরা বা মোবাইল ফোনে। প্রকৃতিপ্রেমীদের দেখে মনে হয় এটি কোন ফসলের মাঠ না, যেন কোন বিনোদন কেন্দ্র। একটু মুক্ত বাতাস ও সতেজ নিঃশ্বাস গ্রহনের জন্য তারা কর্ম ব্যস্ততা রেখে দুর-দুরান্ত থেকে ছুটে আসছেন প্রকৃতির কাছে এবং সরিষার হলুদ ফুলের চোখ জুরানো নয়োনাভিরাম দৃশ্য দেখে তারা হচ্ছেন মুগ্ধ। রাজবাড়ীর বিভিন্নস্থানের বিস্তৃর্ণ এলাকা জুরে চাষ হয় সরিষার। তারমধ্যে অন্যতম ও বৃহৎ এলাকা হচ্ছে কালুখালীর রতনদিয়ার মুড়ারিখোলা রুপসা এলাকা। এখন এখানে সরিষার হলুদ ফুলে প্রকৃতি যেন সেজেছে এক অপরুপ সৌন্দর্য্যে, সৃষ্টি হয়ে দিগন্তজুরে নয়নাভিরাম দৃশ্য। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও এই এলাকায় একসাথে প্রায় ১শ একর জমিতে চাষ হয়েছে সরিষার। প্রতিদিন পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধবসহ শত শত মানুষ এই সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে আসছেন।এদিকে সরিয়া চাষে খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় এবছর বেড়েছে আবাদ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আশা উৎপাদনও ভাল হবে।প্রকৃতিপ্রেমী মোঃ অনিক বলেন, যতদূর চোখ যাচ্ছে শুধু হলুদ আর হলুদ। নিজেদের মনকে ভাল করতে স্ত্রীকে নিয়ে পাংশা থেকে এখানে এসেছি। আর এই সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে প্রতি বছরই আসি । আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা সহ অনেক দূর-দূরান্ত থেকে  মানুষ আসে । ছবি তুলে, ঘুরা ঘুরি করে, আড্ডা দেয় এবং এই সৌন্দর্য উপভোগ করে। আমিও স্ত্রীর সাথে নিয়ে ছবি তুলছি। এরকম পরিবেশ সব সময় পাওয়া যায় নাই। এক কথায় এখানে চমৎকার পরিবেশ। স্কুল ছাত্র আপন বলে,  এখানে অনেক সরিষার ফুল জেনে স্কুল ছুটি শেষে বন্ধুরা মিলে ক্যামেরা নিয়ে এসেছি। এসে সবাই মিলে মজা করেছি, ছবি তুলেছি। জায়গাটি খুবই সুন্দর। সুষমা বলেন, এখানে আমার বাবার বাড়ী। এই সময়টাতে এখানে আসা হয় সরিষা ফুলের সৌন্দর্য্য দেখতে এবং ছবি তোলা ও ভিডিও করতে। আজ মেয়ে, ভাবি ও ছোট বোনদের সাথে এখানে এসেছি। খুব ভাল লাগছে। যে দিকে তাকাই সেদিকেই শুধু সরিষার ফুল। বর্ষার সময় এখানে পানি থাকলেও এখন এখানে সরিষা ফুলে ছেয়ে গেছে। দূর দূরান্ত থেকে অনেকে মানুষ এসেছে। সবাইকে দেখে মনে হচ্ছে  এটা একটা পর্যটন কেন্দ্র। স্থানীয় মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, রাজবাড়ী নদী কেন্দ্রিক জেলা। এখানে  বিনোদন কেন্দ্র নেই বললেই চলে। তবে কালুখালীর রুপসার এই সরিষা ফুলে আমরা মুগ্ধ। এখানে প্রতিদিন জেলা-উপজেলা শহরসহ বিভিন্নস্থান থেকে শতশত মানুষ আসছে প্রকৃতির সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে। স্থানীয় এলাকাবাসী হিসেবে আমরা আনন্দিত। রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ অফিসার গোলাম রাসূল বলেন, সরিষার হলুদ ফুল যখন এক সাথে দিগন্ত জুরে ফোটে, তখন যেমন মানুষের মনের খোরাক মেটায়, তেমনি পরিবেশের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করে। কালুখালীর রুপসায় বিস্তৃর্ণ এলাকার সরিষা ফুল তেমনি এক মনমুগ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *