ব্যুরো চীফ,ফরিদপুর
মার্চের প্রথম দিনেই ফরিদপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে দেখা গেল নাটকীয় মোড়। সকালে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিনটির সূচনা হলেও, বিকেলে সেই পতাকার স্ট্যান্ড কেটে অপসারণের ঘটনায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক। ঘটনাটি ঘিরে শহরের চকবাজারসংলগ্ন থানার মোড় এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর পৌর কার্যালয় এখন রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ্রবিন্দু। সকালে শ্রদ্ধা ও স্লোগানে মুখর কার্যালয় রোববার (১ মার্চ) সকাল সাতটার দিকে কয়েকজন যুবলীগ কর্মী কার্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে এলাকা।
পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান–এর প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। আয়োজকদের ভাষ্য, স্বাধীনতার মাসের সূচনায় মার্চের চেতনা ধারণ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস স্মরণ করতেই এ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শরিফুল হাসান প্লাবন। তিনি বলেন, “স্বাধীনতার মাসের শুরুতে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোই ছিল আমাদের মূল উদ্দেশ্য।”
বিকেলে স্ট্যান্ড অপসারণ নিয়ে অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগ তবে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কার্যালয় প্রাঙ্গণে স্থাপিত পতাকার তিনটি স্টিলের স্ট্যান্ড কেটে অপসারণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। যুবলীগের কয়েকজন নেতা দাবি করেন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেনের নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা এ কাজ করেছেন। তবে সৈয়দ আদনান হোসেন নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কিছুক্ষণ দাঁড়িয়েছিলাম, কিন্তু স্ট্যান্ড অপসারণে নেতৃত্ব দিইনি।”
পুলিশের বক্তব্য:
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, পতাকা উত্তোলনের বিষয়ে পুলিশ আগে থেকে অবগত ছিল না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কার্যালয়টি বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে এবং সেখানে এখন কোনো পতাকা নেই। প্রেক্ষাপট: প্রতীকের রাজনীতি ও পরিবর্তনের ইঙ্গিত
উল্লেখ্য, ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ববর্তী কার্যালয় ভেঙে সেখানে ‘জুলাই ৩৬’ নামের একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে আলোচিত। এমন প্রেক্ষাপটে পৌর কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন ও পরে স্ট্যান্ড অপসারণের ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে প্রতীকী তাৎপর্য বহন করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্চ মাস বাঙালির স্বাধীনতার চেতনার মাস। এ সময় জাতীয় পতাকা, দলীয় প্রতীক ও ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে ঘিরে কর্মসূচি কেবল সাংগঠনিক কার্যক্রম নয়—বরং তা আবেগ, ইতিহাস ও রাজনৈতিক অবস্থানের প্রকাশ। ফলে ফরিদপুরের এই ঘটনাটি প্রশাসনিক সীমা ছাড়িয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। শেষকথা: একই দিনে দুটি বিপরীতমুখী দৃশ্য—সকালে পতাকা উত্তোলন, বিকেলে স্ট্যান্ড অপসারণ। ফরিদপুরে এই ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করেছে, রাজনৈতিক প্রতীক এখনো অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও শক্তিশালী বিষয়। মার্চের শুরুতেই এমন উত্তেজনা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
