হামিদুল্লাহ সরকার
নীলফামারী ২ (সদর )আসনের দাড়িপাল্লার জামাত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফ এর ইশতেহার ঘোষণা।গত ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাতটায় জামাত ইসলামের নীলফামারী কার্যালয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ১২ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোট সম্মিলিত প্রার্থী এডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফ এর নির্বাচন ইশতেহার প্রকাশ করেন। তিনি তার ইস্তেহারে জানান সে নির্বাচিত হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ভূমি অফিস থানা হাসপাতাল অফিস আদালত সরকারি দপ্তরে ঘুষ ও হয়রানি বন্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।সরকারি বরাদ্দ ব্যয় হবে সত্যতার ভিত্তিতে। অর্থের পরিমাণ ও তার ব্যয় জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে। রাস্তাঘাট ব্রিজ কালভার্ট সহ সকল সরকারি প্রকল্পে থাকবে জনগণের অংশগ্রহণ এবং নজরদারির অধিকার। সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাজের জবাবদিহিতা হবে জনগণের নিকট। নিয়োগ ও সরকারি সেবায় স্বজনপ্রীতি বন্ধ করা হবে। সকলের জন্য ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা হবে। সরকারি সেবার ক্ষেত্রে প্রশাসন হবে স্বচ্ছ ও জনবান্ধব। বিনা অপরাধে প্রশাসনিক ও পুলিশ হয়রানি বন্ধ করা হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে নীলফামারী ২ আসনে ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপকতা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। নীলফামারী জেলা সদরের সাথে পার্শ্ববতি জেলা ঠাকুরগাঁও পঞ্চগড় লালমনিরহাট রংপুর কুড়িগ্রাম জেলার সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। গ্রামীন সড়ক অবকাঠামো প্রয়োজনীয় সংস্কার নতুন সড়ক ও সেতু নির্মাণ গ্রামীণ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সমূহ পাকা করন করা হবে। নীলফামারী শহরকে সুরক্ষিত রাখতে যানজট নিরসনের জন্য বাইপাস সড়ক নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। নীলফামারী রেল স্টেশন কে আধুনিকায়ন ও রেল সেবার মান উন্নয়ন এবং চিলাহাটি স্থলবন্দর চালু করনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইপিজেড শ্রমিকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে এবং যানজট মুক্ত করার জন্য শাটল ট্রেন চালু ও নীলফামারী সৈয়দপুর মহাসড়ককে উড়াল সড়ক করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নীলফামারী পৌরসভার উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশেষ পরিকল্পনার আলোকে রাস্তাঘাট বৈদ্যুতিক ও ড্রেনেক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। শহরের যানজট নিরসনে ও সৌন্দর্য বর্ধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সুস্থ বিনোদনের জন্য নতুন পর্যটন কেন্দ্র খেলার মাঠ শিশু পার্ক তৈরি করা ও পুরনো পর্যটন কেন্দ্র সমূহ নীলসাগর বিন্যাদিঘি কুন্দপুকুর মাজার হরিশচন্দ্র পাঠ নীলফামারী জাদুঘর পর্যটন উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। নীলফামারী তে ১০০০ সজ্জার চীনা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় যথাযথ ভূমিকা পালন করা হবে। নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল ভবনের অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কার করা হবে। এক্সরে আল্ট্রাসনোগ্রাম ইসিজি প্যাথলজি সেবা নিশ্চিত করা হবে। আধুনিক অপারেশন থিয়েটার চালু করা হবে। হাসপাতলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নার্স এবং অন্যান্য জনবল সংকট নিদর্শন করার চেষ্টা করা হবে
হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ঔষধ পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ এবং মানসম্মত চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হবে। উন্নত প্রযুক্তি এম্বুলেন্স সংযুক্ত করা হবে। হাসপাতলে ডেডিকেটেড মা ও শিশু সংস্থার ইউনিট সেবা সচল রাখা এবং গ্রামাঞ্চলে অবস্থিত মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের ব্যবস্থা সহ সেবার মান উন্নত করা হবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় ইশতেহারের আলোকে ছয় বছরের শিশু এবং ৬০ ঊর্ধ্ব নাগরিকদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে। গরিব মেধাবী ও কৃতি শিক্ষার্থীদের কল্যাণ তহবিল গঠনের মাধ্যমে শিক্ষাবৃত্তি ও সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। কারিগরি বা ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠান গুলোতে যথাযথ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। যুগোপযোগী স্কিল দক্ষতা কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থী যুবকদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। আইটি ট্রেনিং এবং ইউ কিউবেশন সেন্টার কে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। গ্রাফিক ডিজাইন ও ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ডিজিটালি মার্কেটিং ও সফটওয়্যার ইত্যাদির প্রশিক্ষণ সহ অত্র কেন্দ্রটির মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে ভূমিকা রাখা এবং এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। বেকার সমস্যার সমাধানের জন্য উত্তরা ইপিজেড এ নতুন কোম্পানি আনায়ন ও শিল্প কারখানা গড়ে তোলার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হবে। ঝুকি সম্পূর্ণ স্থান বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাস্তা কিংবা নির্জন রাস্তাগুলোতে প্রয়োজন অনুসারে সিসিটিভি মনিটরিং ও ল্যাম্প পোস্ট এর ব্যবস্থা করা হবে। যুব তরুণ সমাজকে মাদকের গ্রাস থেকে রক্ষা করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হাট বাজার ইজারা টেন্ডার ঠিকাদারি কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে এবং অসাধু সিন্ডিকেট বন্ধের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় বিরোধ নিরসন কল্পে গ্রাম আদালতকে শক্তিশালী করে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সমাজের সর্বস্তরে নারীর প্রতি বৈষম্য হয়রানি ও নিপীড়ন বন্ধ করা হবে শিক্ষা চাকরি সহ সকল ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্ব দেয়া হবে। নারী শিশুদের অগ্রাধিকার সহ সকল শিশুর সর্বোত্তম সুরক্ষায় সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। কৃষক খামারিদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত এ সম্ভব সকল উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এ লক্ষ্যে হাট বাজার ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন ও পণ্যের মূল্য কার সাজির বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে , শ্রমিক ও কর্মজীবী মানুষের ন্যায্য মজুরি শ্রম অধিকার ও উন্নতকর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। ব্যবসায়ীদের জন্য ঘুষ কমিশন ও চাঁদাবাজ মুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা হবে নতুন উদ্যোক্তাদের সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হবে তাদের সংস্কৃতি ভাষা ও ঐতিহ্য রক্ষায় বিশেষ সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সম্প্রীতি ও সহযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের ধর্মীয় সহ বাসস্থান ধর্মীয় আচরণ অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর জন্য আলাদা সেল গঠন তাদেরকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধা গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার গুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অবাধ তথ্য প্রবাহ স্বাধীন দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের নিশ্চয়তা ও পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে স্থানীয় গণমাধ্যম তৈরিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে ইনশাল্লাহ।
