ePaper

নবীনগর-মুরাদনগর হাইওয়েতে সূর্যমুখীর সুবাস, কৃষকের স্বপ্ন তেলের বাজারে

হেলাল উদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি

নবীনগর-মুরাদনগর হাইওয়ের জিনদপুর এলাকায় এখন চোখ জুড়ানো এক দৃশ্য। যতদূর চোখ যায়, হলুদ রঙের সূর্যমুখীর ফুলে ভরে উঠেছে মাঠ। বসন্তের মৃদু হাওয়ায় দুলতে থাকা এই ফুল শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়াচ্ছে না, একই সঙ্গে ছড়িয়ে দিচ্ছে সম্ভাবনার বার্তা—দেশীয় তেল উৎপাদনের নতুন দিগন্ত।

স্থানীয় কৃষক মাহমুদুল হাসান নিজের উদ্যোগে এই সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। তার পরিশ্রম আর সাহসী উদ্যোগ আজ এলাকার মানুষের নজর কাড়ছে। প্রতিদিন অনেক পথচারী ও দর্শনার্থী থেমে এই অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করছেন, ছবি তুলছেন, আবার অনেকে সূর্যমুখী চাষ সম্পর্কে জানতে আগ্রহও প্রকাশ করছেন। মাহমুদুল হাসান জানান, সূর্যমুখী শুধু সৌন্দর্যের ফুল নয়; এর মূল শক্তি লুকিয়ে আছে এর বীজে। এই বীজ থেকেই উৎপন্ন হয় পুষ্টিগুণে ভরপুর সূর্যমুখী তেল, যা স্বাস্থ্যকর এবং ভোজ্য তেলের একটি উৎকৃষ্ট বিকল্প। তিনি মনে করেন, যদি কৃষকরা সূর্যমুখী চাষে আরও বেশি আগ্রহী হন, তাহলে দেশের ভোজ্য তেলের চাহিদার একটি বড় অংশ দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব। এই ক্ষেত যেন একটি বার্তা দিচ্ছে—“শুধু ফুলের সৌন্দর্য নয়, গ্রহণ করুন সূর্যমুখীর তেল।”দেশীয় কৃষকের উৎপাদিত এই তেল ব্যবহার করলে যেমন স্বাস্থ্য উপকার পাবে, তেমনি শক্তিশালী হবে দেশের কৃষি ও অর্থনীতি। নবীনগরের জিনদপুরের এই সূর্যমুখী ক্ষেত তাই এখন শুধু একটি কৃষিক্ষেত নয়; এটি হয়ে উঠেছে সৌন্দর্য, সম্ভাবনা এবং দেশীয় উৎপাদনের এক অনুপ্রেরণার। কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নবীনগর উপজেলার লাউরফতেহপুর ইউনিয়নে সূর্যমুখী আবাদের গুরুত্বের উপর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার জনাব শাহআলম মজুমদার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজিম উর রউফ খান, সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: জাহাঙ্গীর আলম লিটন। মাঠ দিবসে প্রায় শতাধিক কৃষক উপস্থিত ছিলেন। নবীনগর উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২৫০ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী।আবাদ হচ্ছে।

বক্তরা ভোজ্যতেল হিসেবে সূর্যমুখীর তেল গ্রহণে সবাইকে আগ্রহ বাড়াতে পরামর্শ প্রদান করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *