ePaper

নবীনগরে ১৬ বছর বয়সী কিশোরের আত্মহত্যা: মনতলার

হেলাল উদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোপীনাথপুর মনতলা গ্রামে বুধবার ভোরে এক গভীর শোকের খবর ছড়িয়ে পড়ে, যখন ছিলি আশিক বর্মন (১৬) নামে এক কিশোরের অকাল প্রস্থান। বুধবার প্রায় ভোর **৫ টার দিকে বাড়ির পাশের আমগাছের নিচে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া হয় এবং দ্রুত উদ্ধার করা হলেও প্রাণে ফিরানো সম্ভব হয়নি। পরিবারের সদস্যরা জানান, তাঁকে দেখে প্রথমে অবস্থার গুরুত্ব বুঝতে পারেননি, কিন্তু পরে তাৎক্ষণিকভাবে আশিকের মৃত্যু নিশ্চিত হয়।

নিহত কিশোর আশিক বর্মন উপজেলার মনতলা গ্রামের বাসিন্দা এবং বাবার নাম বাদল বর্মন। পরিবার ও প্রতিবেশীরা বলেন, কোন কারণে তিনি নিজ হাতেই এ পথ বেছে নিয়েছেন তা তারা সহজেই বোঝাতে পারছেন না। স্থানীয়দের কথায়, আশিক ছিল শান্ত, বন্ধুসুলভ একটি ছেলে; তার আচরণ ও মনোভাব সম্প্রতি এমন কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়নি যা তাকে এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করতো।

পরিবারের এবং প্রতিবেশীদের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয়রা বলেন, “আশিক সবসময় হাসিমুখে থাকত; সে পড়াশোনা ও খেলাধুলায় ভাল ছিল।” তাঁরা দাবি করেছেন, গত কয়েক দিনে তিনি কাউকে কোনও বলেছিলেন বলে মনে পড়ে না যাতে দেখা যায় তিনি কোনও মানসিক চাপ বা হতাশায় ছিলেন।

একজন প্রতিবেশী বলেন, “এমন কিছু ঘটার আগে যদি ওর আচরণ বদলায়, তাহলে হয়তো আমরা কেউ লক্ষ্য করতে পারতাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউই বুঝতে পারিনি তিনি কী অনুভব করছিলেন।” পরিবারের লোকজন বলেন, হত্যার কোনো ঘোষণা বা চিঠি তারা পাননি, যা থেকে বোঝা যেত কি কারণে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিলেন। সমাজে আত্মহত্যার প্রেক্ষাপট ও প্রতিরোধের গুরুত্ব

বাংলাদেশে আত্মহত্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ধাপে ধাপে আত্মহত্যার হার বাড়ছে এবং সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি হিসাবে গলায় ফাঁস দেওয়া দেখা যায়। এই জাতীয় ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবার, সমাজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে দেশে গড়ে দিনে প্রায় ৪০টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে এবং এর বেশিরভাগটি ফাঁস দিয়ে — যা যুব ও কিশোরদের মধ্যে লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর বয়সে মানসিক চাপ, পড়াশোনার চাপ, সম্পর্কগত জটিলতা বা আত্মসম্মানহীনতা—যে কোনো কারণেই হোক—যুব সমাজের উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। এজন্য পরিবার, স্কুল ও কমিউনিটি-ভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা সিস্টেম অত্যন্ত জরুরি।

পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা ঘটনা স্থলে উপস্থিত পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তারা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং প্রাথমিকভাবে পরিবার ও স্থানীয়দের থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কোন মানসিক চাপ বা পেছনের কারণগুলি ছিল কি না তা তদন্ত করা হবে। আশিক বর্মনের অকালিক মৃত্যু শুধু একটি পরিবারে শোক, বরং নবীনগরের সামাজিক প্রেক্ষাপটে গভীর ভাবনার উদ্রেক ঘটিয়েছে। এই ধরনের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সকলের উচিত কিশোরদের মানসিক ও সামাজিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরও বেশি মনোযোগী হওয়া—যাতে কেউই অনুভূতিহীনতার অন্ধকারে হারিয়ে না যায়। পুলিশের পক্ষ থেকে আশিক বর্মন এর মরা দেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *