ePaper

নবীনগরে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০

হেলাল উদ্দিন নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

?ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং গ্রামে রবিবার সকালে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় গ্রামবাসীর ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ সময় কয়েকজন গুলিবিদ্ধসহ মোট ২০ জন আহত হন।স্থানীয়দের কয়েকজন জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করতে গেলে গ্রামবাসী প্রতিবাদে এগিয়ে যান। ক্ষিপ্ত হয়ে পার্শ্ববর্তী রায়পুরা উপজেলার মির্জাচর এলাকা থেকে স্পিডবোট ও নৌকায় একদল ‘বালু সন্ত্রাসী’ আসে এবং এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। তারা জানায় এসময় পুকাওল্লাহর ছেলে রুপ মিয়া, শুকু মিয়ার ছেলে ইব্রাহিম, মালেক মিয়ার ছেলে নুরুন্নবী, মহাবত আলীর ছেলে জসিম, তুহিন মিয়ার ছেলে সিয়াম, আলী হোসেন, শাখাওয়াত হোসেনসহ আরও অনেকে আহত হন। আহতদের নবীনগর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়, এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানান তারা। টনার পর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক এবং নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ মোতায়েন করা হলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।ুরুল আমিন, রুপ মিয়া, আলী নেওয়াজ, জসিম মিয়া, জামাল মিয়া, তৌহিদ মিয়া, জামাল হোসেনসহ আরও অনেকেই প্রতিদিনের বাংলাদেশ কে জানান, শাখাওয়াত হোসেন পায়েল নামে পরিচিত একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ‘অবৈধ’ভাবে বালু উত্তোলন করছে। সরকারি ইজারা পাওয়া ‘মেসার্স সামিউল ট্রেডার্স’ প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এই কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলেও তারা জানান। তারা অভিযোগ করেন, প্রতিবাদ করলে গুলি, হামলা ও ভয়ভীতি—এভাবেই সিন্ডিকেটটি এলাকায় ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেছে। এবং লাগামহীন বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীর ভেঙে যাচ্ছে এবং বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে অসংখ্য পরিবার।

‘মেসার্স সামিউল ট্রেডার্স’-এর মালিক শাখাওয়াত হোসাত পায়েলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান জানান, খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” নবীনগর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে কৃষিজমি ভাঙনের মুখে পড়ছিল। গ্রামবাসী বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হলে অনেকেই আহত হন।

ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যেই কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান ওসি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, বালু মহলের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রশাসনকে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *