নিজস্ব প্রতিবেদক
সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সম্মানে জাতীয় শোক দিবসের শেষ দিনে শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) ড্যাফোডিল ফ্যামিলির ৬,৫০০ সদস্য তাদের প্রতিবছরের নির্ধারিত ফ্যামিলি ডে উপলক্ষ্যে একত্রিত হয়ে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং সৃষ্টিকর্তার কাছে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।একইসঙ্গে ড্যাফোডিল গ্রুপ একটি যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক সামাজিক অঙ্গীকার ঘোষণা করেছে। এ ঘোষণার মাধ্যমে ২০২৬ সাল থেকে ড্যাফোডিল গ্রুপের নেট আয়ের এক-তৃতীয়াংশ দেশের জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, যা বাংলাদেশের কর্পোরেট ইতিহাসে দায়িত্বশীল ও মানবিক ব্যবসায়িক নেতৃত্বের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। রাজধানীর সাভারে ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটিতে আয়োজিত ফ্যামিলি ডে অনুষ্ঠানে ড্যাফোডিল গ্রুপের বিভিন্ন কনসার্নের প্রতিনিধিত্বকারী নেতৃত্ব এবং ৬,৫০০-এরও বেশি ড্যাফোডিল পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে এই অঙ্গীকারটি একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তির মাধ্যমে প্রকাশ্যে কার্যকর করা হয়। এই ঘোষণার মাধ্যমে ড্যাফোডিল গ্রুপ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে, প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ পথচলা কেবল ব্যবসায়িক লাভের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং জাতীয় উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণই হবে এর মূল লক্ষ্য। ফ্যামিলি ডে উপলক্ষ্যে ড্যাফোডিল গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী মানবসম্পদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। এসময় ২০ বছরের বেশি সময় ধরে কর্মরত ৭৯ জন এবং ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে কর্মরত ১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। ড্যাফোডিল গ্রুপ বিশ্বাস করে, নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরাই প্রতিষ্ঠানের টেকসই সাফল্যের মূল ভিত্তি। অনুষ্ঠানে ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. সবুর খান বলেন, ‘২০২৬ সাল থেকে ড্যাফোডিল গ্রুপের সকল কনসার্নের নেট প্রফিটের এক-তৃতীয়াংশ জনগণের কল্যাণে উৎসর্গ করা হবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগ কেবল কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্ব পালনের অংশ নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতি-গঠনের অঙ্গীকার। তিনি জানান, ‘এটি শুধু দান নয় এটি ঘধঃরড়হ ইঁরষফরহম ওহাবংঃসবহঃ।’ ঘোষিত এই ঙহব-ঞযরৎফ ঝড়পরধষ ঈড়সসরঃসবহঃ-এর আওতায় শিক্ষা ও স্কলারশিপ, যুব নেতৃত্ব উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা এবং সুবিধাবঞ্চিত ও সম্ভাবনাময় তরুণদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে বিনিয়োগ করা হবে। ড. সবুর খান আরও বলেন, ‘যখন একটি প্রতিষ্ঠানের আয়ের এক-তৃতীয়াংশ জনগণের জন্য যায়, তখন সেই প্রতিষ্ঠান আর শুধু মালিক বা কর্মীদের নয় পুরো দেশের হয়ে যায়।’ সার্বিক বিবেচনায় এ উদ্যোগ বাংলাদেশের সব কর্পোরেট সেক্টরের জন্য অনুকরণীয়। একদিকে সম্পদের ঘাটতি অন্যদিকে বিশাল জনসংখ্যা, এখানে মানুষ যদি মানবিক না হয় তাহলে আমরা সবাই সবার জন্য বিপদজনক হয়ে উঠতে পারি, বলেন ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ সবুর খান। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় যে, ২০০০ সাল থেকে ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশন যে জেলা-ভিত্তিক উন্নয়ন মডেলে কাজ করে আসছিল, ২০২৬ সাল থেকে সেই কার্যক্রম সারা বাংলাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি প্রান্তের সম্ভাবনাময় ও প্রতিশ্রুতিশীল তরুণদের সঙ্গে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ড্যাফোডিল গ্রুপ। অনুষ্ঠানে ড্যাফোডিল গ্রুপ তাদের ঙহব-ঞযরৎফ ঝড়পরধষ ঈড়সসরঃসবহঃ-এর ভিশন তুলে ধরে জানায়, এই ‘ঙহব-ঞযরৎফ উড়হধঃরড়হ’ উদ্যোগ কোনো সাধারণ দান নয়; এটি একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জাতি-গঠনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এই তহবিলের মাধ্যমে শিক্ষা ও বৃত্তি, যুব নেতৃত্ব উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা এবং উদ্ভাবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ধারাবাহিক বিনিয়োগ করা হবে। একইসঙ্গে ২০০০ সাল থেকে ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশন যে জেলা-ভিত্তিক উন্নয়ন মডেলে কাজ করে আসছিল, ২০২৬ সাল থেকে সেই কার্যক্রম সমগ্র বাংলাদেশে বিস্তৃত করা হচ্ছে। একই গ্রুপের নেট মুনাফার তৃতীয়াংশ, কোনোভাবেই কোনো পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারী কারো বেতন-ভাতার ওপর প্রভাব ফেলবে না বলেও জানিয়েছেন ড্যাফোডিল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।
ড্যাফোডিল গ্রুপ মনে করে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীরা গর্বের সঙ্গে জানবে যে তাদের শ্রম দেশের কল্যাণে অবদান রাখছে, প্রতিষ্ঠানটি কেবল একটি কর্পোরেট গ্রুপ নয়, বরং জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতির অংশীদার হিসেবে ‘জাতির সম্পদে’ পরিণত হবে এবং বাংলাদেশে দায়িত্বশীল কর্পোরেট সংস্কৃতির একটি শক্ত ভিত্তি গড়ে উঠবে। ড্যাফোডিল গ্রুপের এই ঐতিহাসিক ঘোষণা প্রমাণ করে যে, প্রকৃত সাফল্য তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন পুরো জাতির জীবনে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ড্যাফোডিল গ্রুপ একটি মানবিক, টেকসই ও মূল্যবোধনির্ভর ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
