ePaper

তদবির বাণিজ্য ও দালালমুক্ত নবীনগর চাই’—এমপি আব্দুল মান্নান

হেলাল উদ্দিন  (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করে অপরাধমুক্ত, সুশাসন ও ন্যায়ভিত্তিক নবীনগর গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মুখ্য উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান।

সোমবার নবীনগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা কনফারেন্স রুমে জাতীয় নজরুল দিবস ও মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে এমপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, “নবীনগরের মানুষের জানমাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো ধরনের অবনতি মেনে নেওয়া হবে না।” অপরাধ দমনের পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, তদবির বাণিজ্য, দালালি ও অনৈতিক প্রভাবমুক্ত নবীনগর গড়ে তুলতে হবে। সাধারণ মানুষ যেন সরকারি বা প্রশাসনিক কোনো সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার না হন এবং ন্যায্য অধিকার পেতে কারও তদবিরের প্রয়োজন না হয়—এমন একটি জনবান্ধব প্রশাসনিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

এমপি আরও বলেন, অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তার পরিচয়, রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

সভায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদী চেতনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, নজরুলের মানবিক ও সাম্যের দর্শন সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে বিভেদ, বৈষম্য ও অপরাধমুক্ত একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

সভায় সভাপতিত্ব করেন নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি এবং সামাজিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় নবীনগরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ দমন, সামাজিক সমস্যা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও জননিরাপত্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।সভা থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়—অপরাধ, অনিয়ম, তদবির বাণিজ্য ও দালালির প্রভাবমুক্ত একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ, সুশাসনভিত্তিক ও জনবান্ধব নবীনগর গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।