মনিরুজ্জামান মিলন পাটোয়ারী, জলঢাকা
নীলফামারীর জলঢাকা পৌর শহরের নীরব গভীর রাতে হঠাৎ করেই আগুনের লেলিহান শিখায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পৌর শহরের কদমতলি কৈমারী রোড সংলগ্ন জাহাঙ্গীর আলমের অটো রাইস মিলের একটি বস্তার গোডাউনে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় গোডাউনে মজুত থাকা বিপুল পরিমাণ বস্তা। এই ঘটনায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় গোডাউন থেকে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা বের হতে দেখে প্রথমে স্থানীয়রা বিষয়টি আঁচ করতে পারেন। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ রূপ ধারণ করলে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গভীর রাত হওয়ায় গোডাউনে কেউ না থাকলেও আগুনের তীব্রতা ছিল ভয়ংকর। গোডাউনের কায়িকশ্রমিক বাবুল হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে কাজ শেষ করে তালা দিয়ে চলে যাই। কখনো ভাবিনি রাতে এমন আগুন লাগবে। পরে শুনে ছুটে আসি, এসে দেখি সব পুড়ে গেছে। গোডাউনের বর্তমান ভাড়াটিয়া মোস্তাফিজুর রহমান জানান, রাত সাড়ে ৪টার দিকে গোডাউনের পাশের বাড়ির মালিক জয়নাল আবেদীন তাকে ফোন করে আগুন লাগার বিষয়টি জানান। খবর পেয়েই ফায়ার সার্ভিসে যোগাযোগ করা হয়। খবর পেয়ে জলঢাকা ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের তাৎপর্যপূর্ণ প্রচেষ্টায় আশপাশের স্থাপনায় আগুন ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা পায়। ভুক্তভোগী মোস্তাফিজুর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, এই গোডাউনের মালামালই ছিল আমার ব্যবসার মূল ভরসা। এক রাতেই প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়ে গেল। এ বিষয়ে জলঢাকা ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, গভীর রাতে সংঘটিত এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এই অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত আগুনের কারণ অনুসন্ধান ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
