ePaper

কোম্পানীগঞ্জে ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের ইফতার মাহফিল: ঐক্য ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার বার্তা

মেছবাহ উদ্দিন, কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি

নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (ডিএমএফ) চিকিৎসকদের যৌথ উদ্যোগে এক আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) বিকেলে বসুরহাট বাজারের গ্র্যান্ড হোটেল অ্যান্ড পার্টি সেন্টারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপজেলা স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ডিপ্লোমা চিকিৎসক, স্থানীয় সাংবাদিক ও স্বাস্থ্যসেবায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।ইফতার মাহফিলের শুরুতে পবিত্র আল কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি পবিত্র ও স্নিগ্ধ পরিবেশে শুরু হয়। পরবর্তী আলোচনা পর্বে বক্তারা রমজানের তাৎপর্য, আত্মসংযম, ধৈর্য ও তাকওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, রমজান কেবল রোজার মাস নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, নৈতিক উন্নয়ন এবং সমাজে সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার এক অনন্য সুযোগ।প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিডিএমএ) নোয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি চিকিৎসক এম. এ. হাতেম খান। তিনি বলেন, দেশের গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার বড় অংশ ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকলেও তারা যথাযথ মর্যাদা ও স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত। তিনি সরকারের প্রতি ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের ন্যায্য স্বীকৃতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। বিডিএমএ জেলা সেক্রেটারি চিকিৎসক আকতার উদ্দিন ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের ইতিহাস তুলে ধরেন। ১৯৭৮ সালে প্রথম মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) চালু হয় এবং সেখান থেকে ডিএমএফ ডিগ্রিধারী চিকিৎসক তৈরি হতে থাকেন। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নির্ধারিত সিলেবাস অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে আসছেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ডিপ্লোমা চিকিৎসক মো. আবু নাছের। তিনি বলেন, ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের নিয়ে নানা অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, যা দুঃখজনক। খুব শিগগিরই সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা তুলে ধরা হবে।বক্তারা ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের প্রতি বিদ্যমান বৈষম্য দূর করা, ডিপ্লোমা মেডিকেল অফিসার হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, সরকারি চাকরির নিশ্চয়তা, নতুন নিয়োগ বৃদ্ধি ও উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান জানান। তারা বলেন, দেশের গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো প্রয়োজন।অনুষ্ঠানের শেষপর্বে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে অতিথিরা একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই মাহফিল কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠানই নয়, বরং পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ঐক্য ও পেশাগত সংহতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *