ePaper

কোমা থেকে ফিরে অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি বললেন ‘জীবন কত ঠুনকো’

স্পোর্টস ডেস্ক

৮ দিন কোমায় থাকার পর অবশেষে বাসায় ফিরলেন অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি ড্যামিয়েন মার্টিন। অথচ তার বাঁচার সম্ভাবনা ছিল ফিফটি-ফিফটি। মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৬ ডিসেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। চারদিন পর মার্টিনের জ্ঞান ফিরলেও, পর্যবেক্ষণে ছিলেন আরও কয়েকদিন। সেই সময়ের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা জানিয়ে সাবেক এই অজি ক্রিকেটার বলছেন– ‘জীবন কত ঠুনকো!’আজ (শনিবার) কুইন্সল্যান্ডের গোল্ডকোস্ট বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন ড্যামিয়েন মার্টিন। ৫৪ বছর বয়সী সাবেক এই ব্যাটারের বর্তমান অনুভূতি অনেকটা এমন– ‘জীবন আমার হাত থেকে প্রায় ফসকে গিয়েছিল।’ ‘আই অ্যাম ব্যাক’ লিখে নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে একটি বার্তা দিয়েছেন। যেখানে সংকটকালে শুভকামনা জানানো মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান মার্টিন।

সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘বেঁচে থাকা নিয়ে ৫০/৫০ সম্ভাবনা জানানো এবং ৮ দিন কোমায় থাকার পর আমি ফিরে এসেছি। ওই সময় আমি হাঁটা এমনকি কথাও বলতে পারিনি। ৪ দিন পর চিকিৎসকরাও অবিশ্বাস করছিলেন সব– কারণ আমি হাঁটতে পারছিলাম এবং কথা বলছি। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয় যে, কী কারণে আমাকে পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চালাতে হাসপাতাল থেকে মুক্তি দিতে হবে।’জীবনের রং কত দ্রুত বদলে যেতে পারে– নিজে সেই অভিজ্ঞতা উপলব্ধি করে মার্টিন বলছেন, ‘বাড়িতে ফিরতে পেরে আমি খুবই খুশি। সমুদ্রের বালুতে পা রাখতে পারছি এবং সেসব মানুষদেরও কৃতজ্ঞতা জানাতে পারছি যারা আমি ও আমার পরিবারকে ক্রমাগত সমর্থন দিয়ে গেছেন। এই অভিজ্ঞতা আমাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে– জীবন কতটা ঠুনকো, কত দ্রুত সবকিছু বদলে যেতে পারে এবং সময় কতটা মূল্যবান।’‘এই বিশ্বে কত অসাধারণ সব মানুষ আছেৃপ্যারামেডিকস থেকে শুরু করে চিকিৎসক ও নার্সরাৃপরিবার, বন্ধু-বান্ধব এবং এমন মানুষ যাদেরকে আমি চিনি না। আমার মনে হচ্ছে গত তিন সপ্তাহে আমি দুর্দান্ত সব মানুষের সাক্ষাৎ পেয়েছি। অথবা তারা ভালোবাসা ও সহানুভূতির বার্তা নিয়ে আমার দিকে এগিয়ে এসেছে’, আরও যোগ করেন ড্যামিয়েন মার্টিন।এর আগে বক্সিং ডেতে বাড়িতে বিশ্রাম নিতে শোয়ার পরই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে মার্টিনের। এরপর তাকে কুইন্সল্যান্ডের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এতে বিষাদ নামে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাঙ্গনে। চার দিন পর মার্টিনের শরীর দ্রুত সাড়া দিতে দেখে চিকিৎসকরা আশাবাদী হয়ে উঠেন। তার সঙ্গী আমান্ডা জানিয়েছেন, কোমা থেকে জেগে ওঠার পর চিকিৎসায় দ্রুত সাড়া দিচ্ছেন মার্টিন।প্রায় ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার মার্টিনের। ১৯৯২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন। ক্যারিয়ারে ৬৭টি টেস্টে ৪৬.৩৭ গড়ে করেছেন ৪৪০৬ রান, আছে ১৩টি সেঞ্চুরি। এ ছাড়া ২০৮ ওয়ানডেতে ৪০.৮০ গড়ে ৫৩৪৬ রান করেন মার্টিন, রয়েছে ৫টি সেঞ্চুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *