ePaper

আমদানির চেয়ে দেশীয় সুতায় ২০ সেন্ট বেশি দিতেও প্রস্তুত পোশাকশিল্প মালিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

আমদানি করা সুতার চেয়ে দেশীয় সুতার দাম ৩৫ থেকে ৬০ সেন্ট বেশি নেওয়া হয় জানিয়ে, এটি ২০ সেন্ট পর্যন্ত বেশি হলেও দেশীয় শিল্পের স্বার্থে দেশের সুতা কিনতে প্রস্তুত রয়েছেন তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকরা। তাদের দাবি, সরকার সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা প্রত্যাহার করার আগে এটি নিশ্চিত করলে তাদের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি থাকবে না। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নেতারা এমন দাবি করেন। একইসঙ্গে তারা আমদানি করা সুতা ও দেশীয় সুতার মধ্যে দামের এই ব্যবধান নিশ্চিত করার আগে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা প্রত্যাহার না করার দাবি জানান। জানা গেছে, বর্তমানে ভারত থেকে আমদানি হওয়া সুতাই দেশের বেশিরভাগ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পে ব্যবহার হয়। ৩০ কার্ডের এক কেজি সুতা বাংলাদেশি মিলগুলো বিক্রি করে প্রায় ৩ মার্কিন ডলারে, যা ভারতীয় উৎপাদকেরা বিক্রি করে দুই ডলার ৬০ সেন্টে। মূলত কম দামের কারণেই বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা ভারতের সুতা আমদানি করেন। এছাড়া চীন, ভিয়েতনামসহ কয়েকটি দেশের সুতা আমদানিতে আরো কম ব্যয় হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপ হলে তা নিঃসন্দেহে রপ্তানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আমরা দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো রক্ষা করার পক্ষে, তবে এই মুহূর্তে বন্ডেড সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে সেটি তৈরি পোশাক শিল্পে বড়ো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এরই মধ্যে গত ছয় মাস ধরে আমাদের রপ্তানি নিম্নমুখী রয়েছে। সুতায় বন্ডেড সুবিধা প্রত্যাহার হলে রপ্তানি আরো বড়ো ধরনের হোঁচট খাবে।‘সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত পোশাক শিল্পের জন্যে হুমকি : পাট শিল্পের পরে গার্মেন্টস শিল্প বন্ধের পাঁয়তারা’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, বিজিএমইএর সিনিয়র সহ সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ সভাপতি রেজওয়ান সেলিম, পরিচালক ফয়সাল সামাদ প্রমুখ।লিখিত বক্তব্যে বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বলেন, চরম পরিতাপের বিষয় হলো, বিশ্ববাজারের মন্দাভাব, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটের মতো ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জ যখন আমাদের শিল্পকে কোণঠাসা করছে, ঠিক তখনই সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের মতো এক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত আমাদের সামনে এসেছে। যদিও আমরা পোশাক রপ্তানিকারীরাই বাংলাদেশের স্পিনিং মিলগুলোর উৎপাদিত সুতার একমাত্র ক্রেতা, তারপরও এরকম একটি স্পর্শকাতর ও সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পোশাক শিল্পের স্বার্থকে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করা হয়েছে। ট্যারিফ কমিশনের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলার মধ্যেই আমাদের মতামতকে পাশ কাটিয়ে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। তিনি বলেন, সরকারের প্রতি আমাদের আমাদের একান্ত অনুরোধ- সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক। বস্ত্রখাতকে সুরক্ষা দিতে হলে আমদানিতে শুল্ক না বসিয়ে তাদের সরাসরি নগদ সহায়তা বা বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে।তিনি আরও বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করা, জ্বালানির মূল্য যৌক্তিককরণ, রপ্তানিমুখী সুতা উৎপাদনকারীদের কর্পোরেট ট্যাক্সে রেয়াত এবং স্বল্প সুদে ঋণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে স্পিনিং মিলগুলোর উৎপাদন খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *