ePaper

‘অনেকদিন আগে একবার এই ভোট দিছিলাম’উল্লাপাড়ার বেতবাড়ী খেয়াঘাটে তিন দিনমজুর

রফিকুল ইসলাম,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

‘ন্যাহাপড়া (লেখাপড়া) জানি না। হুইন্তাছি সামনের মাসে ভোট ওইব। একসঙ্গে দুই ভোট। একটো নাকি হ্যাঁ-না ভোট। মলেকদিন (অনেকদিন) আগে একবার এই ভোট দিছিলাম। এবার আবার হেই ভোট দিতে ওইব। সরকার টিপিতে (টিভি) হ্যাঁ মার্কায় ভোট দিবার কথা কইতেছে। দ্যাশের নাকি ভালো ওইব। আমি অতশত বুঝি না, দ্যাশের ভালো ওইলে আমিও হ্যাঁ মার্কায় ভোট দিমু।’ আঞ্চলিক ভাষায় কথাগুলো বললেন উল্লাপাড়া উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের বেতবাড়ী গ্রামের বৃদ্ধা রজুবা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশেষ করে গণভোটের ব্যাপারে গ্রামীণ সাধারণ জনগোষ্ঠীর ভাবনা সম্পর্কে জানতে গেলে এমন মন্তব্য করেন তিনি। উল্লাপাড়া পৌরসভার ঝিকিড়া মহল্লার বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব সবুরা খাতুন বলেন, ‘হ্যাঁ-না ভোট সম্পর্কে গাঁয়ের লোক ম্যালা কথা কইতাছে। উল্লাপাড়ার সরকারি অফিসারেরাও ইস্কুলের মাঠে পর্দা খাটাইয়া হেই ভোট সম্পর্কে ম্যালা (অনেক) ছবি দেখাইছে। সেহানে হ্যাঁ ভোটের কথা কইল।’ রজুবা ও সবুরার মতো এমন কথা বলেন, উপজেলার সলপ ইউনিয়নের কোনাবাড়ী গ্রামের গীতা রানী, কৃষকগঞ্জ এলাকার মজিদ মিয়া, মহির উদ্দিন, সদর ইউনিয়নের দড়িপাড়া গ্রামের খুশি বেওয়াসহ অনেকে। উপজেলার বেতবাড়ী-পূর্ব সাতবাড়িয়ার খেয়াঘাটে পারাপারের নৌকার অপেক্ষায় ছিলেন তিন দিনমজুর। তারা হলেন, বেতবাড়ী গ্রামের শাহ আলম, হেলাল উদ্দিন ও বরাদ মিয়া। তাদের সঙ্গে গণভোট নিয়ে কথা বললে তারা প্রায় একই ধরনের কথা বললেন, ‘আমরা গায়েগতরে খাইটা খাওয়া মানুষ। অতো কিছু বুঝি না। দেশের পরিবর্তন চাইয়া জীবন দিছে দ্যাশের মেলা ছাওয়াল-পাওয়াল। হ্যাগরে জন্যিই আমগারে হ্যাঁ বাক্সে ভোট দিতে হইব। হগ্গলের ভালো হইলে হ্যাঁ বাক্সেই ভোট দিমু।’

সলপ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম এবং উধুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা মাধ্যামিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদের বিশ্বাস জানান, গ্রামীণ জনপদে গণভোট সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে তারা কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রোজেক্টরের মাধ্যমে সরকারের এ-সংক্রান্ত ভিডিও চিত্র দেখাচ্ছেন। উঠান বৈঠক, গ্রামে গ্রামে সভা এবং হ্যান্ডবিল বিতরণ করছেন। এতে গণভোট সম্পর্কে সাধারণ মানুষ একটি ভালো ধারণা পাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *