ঢাকা, শুক্রবার, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ঠাকুরগাঁওয়ে আর্জেন্টিনা টিমের প্রতি ভক্তের ভালোবাসা!

আর্জেন্টিনা ও বাংলাদেশ যেন এক সুতোয় গাঁথা। ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ সদ্য সমাপ্ত হয়ে ফুরফুরে মেজাজে আছে বাংলাদেশী আর্জেন্টিাইন সমর্থকেরা। বিশ্বকাপের শুরু ও শেষ অবধি আর্জেন্টিনার অলি-গোলির মানুষজনও আজ বাংলাদেশকে চিনে ও জানে। চিনবেই বা না কেন; আর্জেন্টিনা ফুটবল টিমের প্রতি বাংলাদেশীদের সমর্থন বিশ্বের সকল দেশকে ছাপিয়েছে। বাংলাদেশীরা যেমন আর্জেন্টিনাকে ভালবাসে, ম্যারাডোনা, মেসিকে ভালবাসে; ঐ দেশের প্রেসিডেন্ট ও সাধারণ মানুষজনও সেই ভালবাসার প্রতিদান দিতে শুরু করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়নের বোচাপুকুর পোকাতি গ্রামের স্কুল শিক্ষক মাহাবুব আলম নিজের বাড়ির রং করেছেন আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার আদলে। প্রতিদিন অনেক সমর্থক ও সাধারণ মানুষজন তার বাসার সামনে ভীড় জমান। বিশেষ করে বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে আশপাশের মানুষজন তার বাড়িতে তার এই কৃর্তী দেখতে আসেন। এলাকায় খবর নিয়ে জানা যায়, ৮৬ সালের পর থেকেই আর্জেন্টিনা টিমের প্রতি তার এ ভালোবাসা। তার সাথে তার ছেলে ও মেয়ে ও বাড়ির অন্যান্য লোকজনও প্রিয় আর্জেন্টিনা টিমের সমর্থক। বাংলাদেশী বেশ কয়েকটি আর্জেন্টিনা সাপোর্টার গ্রুপের সাথে কথা বলে জানা যায়, জন্ম থেকেই প্রতিটি ভক্তের হৃদয়জুড়ে সুপ্ত হয়ে থাকে আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা। প্রতিদানের প্রত্যাশাবিহীন নিখাদ ভালোবাসা, নি:শর্ত আনুগত্য এটি। ভালোবাসা, অভিমান, অনুরাগ প্রকাশ্যে শ্রম, অর্থ এমনকি জীবন বাজি রাখতেও সমর্থকেরা দ্বিধাবোধ করেনা। তবে বাঙালির ফুটবল ও বিশ্বকাপ প্রেমের নজীর অতুলনীয়। বিশেষ করে ৪ বছর পর পর আর্জেন্টিনা সমর্থকদের অন্তর হৃদয় ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে টিমের প্রতি ভালবাসা। সাত সমুদ্র তেরো নদী আর হাজার হাজার মাইল দূরের আর্জেন্টিনা দেশটির প্রতি বাংলাদেশী সমর্থকদের ভালোবাসা আজ প্রশংসিত। বাঙালিরা রাত জেগে, বিশ্বকাপের খেলা দেখতে টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখে কিংবা প্রিয় টিমের বিশালাকার পতাকা বানাতে পকেটের শেষ কড়িটি নি:সংকোচে খরচ করে, তখন অবাক হয় পৃথিবী। প্রিয় দলের জাতীয় পতাকার রংয়ে নিজের বাড়ি সাজানোর মতো বিস্ময়কর ভালোবাসাও দেখায় এদেশের মানুষ। ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতির বিপরীতধর্মী অবস্থানের পরও বাঙালির এমন প্রবল অনুরাগের সাক্ষী হতে আর্জেন্টিনা থেকেও আসছে সাংবাদিকেরা। জানা যায়, বাংলাদেশে ১৯৮২ সালে টিভিতে খেলা সম্প্রচারের পর থেকেই ভক্ত সমর্থক তৈরী হতে থাকে। পরে ১৮৮৬ সালের বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনা জেতার পর ভক্ত সমর্থক বাড়তে থাকে। মেরাডোনা, বাতিস্ততা, ভেরন, ক্যানিজিয়া, ওরতেগারা যেন বাঙালির স্বপ্নের নায়ক। পরবর্তীতে মেসির আগমনে নতন করে স্বপ্ন দেখা শুরু করে বাংলাদেশী আর্জেন্টিইন সমর্থকেরা। ৪ বছর পর পর নতুন করে স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করে ভক্তরা। আশা, হতাশা ও আনন্দ-উদ্দীপনার মধ্যে দীর্ঘদিন পর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়লাভ করে বিশ্বকে তাক লাগায় আর্জেন্টিনা টিম। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নারগুন সেন্টারহাট গ্রামের বাসিন্দা ও নারগুন উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহাবুব আলম বলেন, আর্জেন্টিনা টিমের প্রতি ভালোবাসা অনেক পুরোনো। ১৮৮৬ সালের পর থেকেই এই টিমকে সমর্থন করে আসছি। এ ভালোবাসা থেকেই বাড়ির রং আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার আদলে করেছি। হয়তো দীর্ঘদিন বিশ্বকাপ জিতেনি; তাতেও সামান্যতম ভালোবাসা কমেনি। এ বছরও বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রতিটি খেলা স্থানীয় বাজারে বড় পর্দায় দেখার ব্যবস্থা করেছিলাম। প্রতিদিন পিকনিকের আয়োজন করা হয়েছিল। বিশেষ করে ফাইনাল খেলার দিন সেন্টারহাট বাজারে বড় ধরনের পিকনিকের আয়োজন করা হয়। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা দরকার; সব সময় বাজারে ব্রয়লার মুরগী দিয়ে এ জাতীয় পিকনিকের আয়োজন করা হলেও একটি বিশেষ টিমের নামের প্রথম অক্ষর ‘ব’ হওয়ায় ফাইনালের দিন আমরা ব্রয়লার মুরগী দিয়ে পিকনিক করিনি। দেশী মুরগী ও গরুর মাংস দিয়ে পিকনিক করেছি। আর্জেন্টিনা টিমের জন্য সব সময়ের জন্য শুভপ্রার্থনা রইল। ঠাকুরগাঁও আর্জেন্টিনা সমর্থক গোষ্ঠীর সমন্বয়ক আসাদুজ্জামান শামিম বলেন, আর্জেন্টিনা, ম্যারাডোনা, মেসির জাদুকরী নৈপুন্যের প্রত্যক্ষদর্শী বেশি বলেই তরুন প্রজন্মের কাছে আর্জেন্টিনার আকর্ষন বেশি। আমরা যারা আর্জেন্টিনা সাপোর্ট করি তারা কখনও কোন প্রতিদানে বিশ্বাসী নয়। নি:সন্দেহে আর্জেন্টিনা বিশ্বের সেরা একটি টিম; তা না হলে ৩৬ বছর বিশ্বকাপ না জিতেও ম্যারাডোনা-মেসির মতো সুপার ফুটবল হিরোদের কারিশমায় আর্জেন্টিনা টিম সব সময় তরুন-যুবদের কাছে পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে। অপরদিকে ৮০ দশকের পর ২বার বিশ্বকাপ জিতেও তরুন-যুব প্রজন্মের কাছে সেরা সমর্থিত দল নয় ব্রাজিল। স্কিল, কারিশমা, নান্দনিক, গোছানো, পাসিং, পাওয়ার, পরিচ্ছন্ন ফুটবলের জন্য আর্জেন্টিনা অল টাইম বেস্ট টিম। এই ভালোবাসার সাথে হার-জিতের কোন সম্পর্ক নেই। আর্জেন্টিনার প্রতি সব সময়ের জন্য শুভকামনা থাকবে।
###

সংবাদটি শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Email this to someone
email
Print this page
Print
Pin on Pinterest
Pinterest

দৈনিক নবচেতনার ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন