ঢাকা, শনিবার, ২৬শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কবি সুফিয়া কামালের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সাংস্কৃতিক জোটের শ্রদ্ধা

দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের নন্দিত কবি বেগম সুফিয়া কামালের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরন করেন। মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির সমস্ত প্রগতিশীল আন্দেলনে ভূমিকা রাখেন সুফিয়া কামাল।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রয়াত কবির মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে রবিবার (২০ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট।

জোটের সভাপতি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কন্ঠশিল্পী রফিকুল আলম, সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানা’র নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পরে কার্যকরী সভাপতি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কন্ঠশিল্পী রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা, নারীবাদী ও আধুনিক বাংলাদেশের নারী প্রগতি আন্দোলনের একজন পুরোধা ব্যক্তিত্ব। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা ১৯৭৬ সালে যখন বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট গঠিত হয় তখন সুফিয়া কামাল জোটের সাথে সম্পৃক্ত হন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

সাবেক ছাত্রনেতা আশ্রাফউজ্জামান মিতু মাদবর,জোটের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন হালদার, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক লায়ন মীযানুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক জয়দেব রায়,চিত্র প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু, অভিনেত্রী পারুল আক্তার লোপা সহ-সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা। তার জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালে। বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে বাঙালি মুসলমান নারীদের লেখাপড়ার সুযোগ যখন একেবারে সীমিত তখন তিনি নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া শেখেন এবং কবিতা চর্চা শুরু করেন।

প্রাঞ্জল ভাষায় ও ব্যঞ্জনাময় ছন্দে তার কবিতায় ফুটে উঠেছে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও সমাজের সার্বিক চিত্র। তিনি নারী সমাজকে অজ্ঞানতা ও কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন।

মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার, মুক্তিযুদ্ধসহ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে তিনি আমৃত্যু সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তিনি ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।

সংবাদটি শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Email this to someone
email
Print this page
Print
Pin on Pinterest
Pinterest

দৈনিক নবচেতনার ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন